Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৬ আশ্বিন ১৪২৫, শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

নলিনী রঞ্জন সরকারের বাড়িতে স্মৃতি নামফলক স্থাপন জরুরী


১৮ আগস্ট ২০১৮ শনিবার, ০৭:০৩  পিএম

মো: নজরুল ইসলাম,ময়মনসিংহ

বহুমাত্রিক.কম


নলিনী রঞ্জন সরকারের বাড়িতে স্মৃতি নামফলক স্থাপন জরুরী
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

ময়মনসিংহ : ব্রহ্মপূত্র নদের তীর ঘেঁষে ময়মনসিংহ শহরের সাহেব কোয়ার্টার পার্কে অবস্থিত শত বছরের পুরনো ইট-সুড়কি দিয়ে নির্মিত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা বাড়িটির প্রকৃত মালিক ছিলো বৃহত্তর ময়মনসিংহের কৃতিসন্তান পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অর্থ বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তরের সাবেক মন্ত্রী এবং কলিকাতা পৌর কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র নলিনী রঞ্জন সরকার।

স্বাধীনতার পর এই বাড়িটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা উদ্বোধন করেন।

পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য বৃহত্তর নলিনী রঞ্জন সরকারের ওই বাড়িটিতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা বিদ্যমান থাকুক তাতে কোনো আপত্তি নেই, তবে তার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য নলিনী রঞ্জন সরকারের স্মৃতি নামফলক ও তার আবক্ষ প্রতিকৃতি বাড়ির সন্মুখে দর্শণীয় স্থানে স্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ময়মনসিংহ জেলা নাগিরিক আন্দোলন ও উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি প্রবীন রাজনীতিবিদ ও বর্ষিয়ান আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমীন কালাম।

১৩ আগষ্ট স্মারকলিপি গ্রহনকালে জেলা প্রশাসক ড. সুভাস চন্দ্র বিশ্বাস জানান, উপমহাদেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদের ঐতিহাসিক এই বাড়িটির স্মৃতি রক্ষা করা একটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক ড. সুভাস চন্দ্র বিশ্বাস। নলিনী রঞ্জন সরকারের স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়িতে ১৯৭১ সালের পূর্বে এনআরএস লেখা ছিলো এবং পরে সেই লেখটি মুছে ফেলা হয়।

নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার সাঝিউড়া গ্রামে ১৮৮২ সালের ৪ মার্চ এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে প্রয়াত বাবু নলিনী রঞ্জন সরকার জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম প্রয়াত চন্দ্রনাথ সরকার এবং মাতার প্রয়াত প্রসন্নময়ী দেবী।

তিনি ময়মনসিংহ সিটি স্কুল থেকে ১৯০২ সালে কৃতিত্বের সাথে এন্ট্রান্স পাস করে পরে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। ১৯২৩-২৪ সালে স্বরাজ দলের মনোনয়নে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে ঐ দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৩৫ সালে কলিকাতা পৌর কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ১৯৩৪ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো এব ১৯৪০ ও ১৯৪১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের সদস্য মনোনীত হন। ১৯৪২ সালে কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের কার্যকারী পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে ডাঃ বিধান রায়ের মন্ত্রীসভায় অর্থ বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তরের মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৪৭ সালের আগে তিনি বড়লাটের শাসন পরিষদের শিক্ষা দপ্তরের সদস্য মনোনীত হন। তৎসঙ্গে দিল্লী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন এবং কারিগরি শিক্ষা পরিষদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন বাবু নলিনী রঞ্জন সরকার । ১৯৫৩ সালের ২৪ জানুয়ারী তিনি পরলোকগমন করেন।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন চিত্রকলার আন্দোলনকে ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে তাঁর শৈশবের স্মৃতিঘেরা ময়মনসিংহ শহরে এই সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা করেন। জেলা প্রশাসন পরিচালিত সংগ্রহশালাটি ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর অধিগ্রহণ করে। ২০০৪ সালের জুলাই মাসে নতুনভাবে সজ্জিত সংগ্রহশালা দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।