Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৪ শ্রাবণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৯ জুলাই ২০১৮, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগপূর্তি উদযাপন


০৭ জুলাই ২০১৮ শনিবার, ০৬:২৯  পিএম

সজীব আহমেদ, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগপূর্তি উদযাপন
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

ময়মনসিংহ : নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যুগ পূর্তি উৎসব উদযাপিত হয়েছে। শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিসক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান।

পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান-এর নেতৃত্বে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে এক শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামসহ অতিথিবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

পরে ‘গাহি সাম্যের গান’ মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা শুধু ৭৫-এর ষড়যন্ত্রের কথা বলি আসলে আরও আগে থেকেই ষড়যন্ত্র চলে আসছে। ৭৪-এর দুর্ভিক্ষও ষড়যন্ত্রেরই ফল, বিদেশ থেকে যখন খাদ্য আসছিল তখন সেই জাহাজ অন্যদিকে পাঠানো হয়েছিল। ১৯৭২ সালে হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে অভিহিত করেছিল। অথচ বারাক ওবামা অন্য দেশে গিয়ে বাংলাদেশকে দেখে শেখার উদাহরণ দিয়েছিলেন।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কৃষি নির্ভর বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অপ্টিক্যাল ক্যাবল যাবে এবছরই। আর আগামী এক বছরের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল বিশ্ববিদ্যালয় হলে হবে না, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হতে হবে।’ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের ১ নম্বর হাই প্রোফাইল রোবোটিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

আলোচনা সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ইমেরিটাস প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘কবি নজরুলের জীবনী এখনও বিকৃতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। আমাদের কাজ হলো নজরুলের বস্তনিষ্ঠ জীবনী প্রকাশ করা। নার্গিসের সাথে নজরুলের বিয়ে হয় নি। কাবিন নামায় ঘর জামাই থাকার বিষয়টি উল্লেখ থাকায় তিনি বিয়ের আসর হতে চলে যান।’ কবি নজরুলের কোন একটি গান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত হিসেবে নির্ধারণ করার জন্য তিনি ভাইস-চ্যান্সেলরকে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ, দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব শামসুল আরেফিন, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মাহমুদ সাজ্জাদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল হান্নান খান, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এ কে এম দেলোয়ার হোসেন, আন্তর্জাতিক নজরুল চর্চা কেন্দ্রের মহাসচিব রাশেদুল হাসান শেলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সুব্রত কুমার দে, শিক্ষক সমিতির সভাপতি তপন কুমার সরকার, আন্তর্জাতিক নজরুল চর্চা কেন্দ্রের ভাইস চেয়ারম্যান নূরুজ্জামান মুন্না এবং ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ কে এম গালিব খান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর এম জালাল উদ্দিন, স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. হুমায়ুন কবীর। শিক্ষার্থীদের পক্ষ হতে মো. নজরুল ইসলাম বাবু এবং মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরাম, পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগ এবং সবশেষে থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের পরিবেশনায় নাটক মঞ্চায়িত হয়।

আলোচনা সভা উপস্থাপনা করেন থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মাজহারুল হোসেন তোকদার এবং নুসরাত শারমিন তানিয়া। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ইমরান হাসান শিমুল হেড অব প্রোগ্রাম, নাট্যকলা বিভাগ, ইনডিপেন্ডেন্ট ই্উনিভার্সিটি।

২০০৬ সালের ৯ মে জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ পাস হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তানুযায়ী এই দিনটিই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়। গত ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তী ও নজরুল জয়ন্তী পালিত হওয়ায় সে সময় সংক্ষিপ্তাকারে উদ্যাপিত হওয়ায় পূনরায় এক যুগ পূর্তি উদ্যাপন করা হয়।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।