Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৮ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

দিরাইয়ে ৬৯ বস্তা চাল জব্দ, ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ


১৪ জানুয়ারি ২০১৮ রবিবার, ০২:২৯  এএম

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


দিরাইয়ে ৬৯ বস্তা চাল জব্দ, ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরেই টানা অকাল বন্যা ও মানব সৃষ্টি কারণে জেলার ১১টি উপজেলায় হাওর ডুবির ঘটনা ঘটেছে। বার বার একমাত্র সম্পদ বোরো ধান হারিয়ে সর্বশান্ত হাওর পাড়ের অসহায় কৃষক পরিবার। এতে করে তারা শেষ সম্বল হালের গরু বিক্রি করে কোন রকমে জীবন পার করছে।

এই পরিস্থিতে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরকারিভাবে স্বল্প মূল্যে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সেই চাল পেয়ে কিছুটা রক্ষা পেলেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। শুরু থেকেই এই চাল নিয়ে চলে কেলেংকারি। কোনটি প্রকাশিত হয় আবার কোনটি প্রকাশ হয় নি থেকে যায় সবার আড়ালে। চাল চুরির ঘটনা প্রকাশ না হওয়ায় গোপনে চলছে জেলার প্রতিটি উপজেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের সাথে নিয়ে খাদ্য গুদাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগ সাজশে স্থানীয় রাঘব বোয়ালদের চাল চুরি। এই সব চুরির ঘটনার প্রকাশ হলেও এর সাথে জড়িতদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন আইননানুগ ব্যবস্থা নেয় নি।

সম্প্রতি জেলার শাল্লা উপজেলায় গত শুক্রবার সকালে শাল্লা উপজেলার সহদেবপাশা গ্রামের পাশে চালের বোঝাই নৌকাটি ভিড়ায়। এসময় কৌতুহলী কয়েকজন স্থানীয় বাসীন্দা দেখতে পান ট্রলারের ভিতরে চালের বস্তা। বস্তার গায়ে সরকারি চাল লেখা। তা দেখে ওই লোকজন সবাইকে ডাতকে শুরু করে। আর নৌকার মাঝি ও শ্রমিকরা দ্রুত সরকারি চালের ৬৯বস্তা ওএমএস গুলো নদীর পাড়েই নামিয়ে নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে খবর পেয়ে শাল্লা থানা পুলিশ চাল গুলো জব্দ করে। এই বিষয়ে জানা যায়, শাল্লা উপজেলা সদরের ২জন ও যেখানে চাল পাওয়া গেছে সেখানকার মনুয়া বাজারের ডিলারগন সরকার দলীয় লোক। জানা গেছে, জেলায় গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে ১১১০টি কেন্দ্রে ডিলারের মাধ্যমে প্রথমে ১৫টাকা কেজি দরে ও এখন ৩০টাকা দরে প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে। জন প্রতি ৫কেজি চাল কিনতে পারবে।

আরও জানা গেছে, এছাড়াও গত বছরের নভেম্বরে জামালগঞ্জ উপজেলায় চাল পাচারের সময় ২০বস্তা ওএমএস চাল আটক করা হয়। ওই চালের মালিক সরকারি দলীয় স্থানীয় নেতা সুব্রত পুরকাস্থ ডিলার। একেই বছরের জুন মাসে জেলার দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নে যুবলীগ নেতা রনি দাসের ডিলারশিপে ১৭বস্তা ওএমএস চাল পাচারের সময় আটক করা হয়। এঘটনায় ডিলারশিপ বাতিল হয়। এই মাসেই ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নে সরকার দলীয় কর্মী জাহাঙ্গীর আলমের ডিলারশিপে ওএমএস চাল পাচারের সময় ২০বস্তা চাল আটক করা হয়। এ কারনে ডিলারশিপ বাতিল হয়।

জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ওএমএস চাল পাচারের কারনে যুবলীগ সদস্য আব্দুল বারীর ডিলারশীপ বাতিল করা হয়। ডিলারশিপ বাতিল ছাড়া আর কঠিন আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক ঘটছে চাল চুরির ঘটনা। এতে করে জেলার সচেতন এলাকাবাসী, ক্ষতিগস্ত হাওরবাসী ও হতদরিদ্র লোকজনের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।

তারা বলেন,সরকারের সহযোগীতা যেমন সুনাম অর্জন করেছিল তার চেয়ে দূনার্ম অর্জন করেছে বেশি। ওই সব চাল চুরদের বিষয়ে আইনের মাধ্যমে আরো কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। ওইসব ডিলার সরকার দলীয় বিধায় সবাই চুপ রয়েছে আর চুরি হচ্ছে। তাদের না পোষে শাস্তি দেওয়াটা ছিল সফলতা আর শাস্তি না দেওয়াটা সরকারের ব্যর্থতা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, আমি জানতে পেরেছি। জব্দকৃত চালের নমুনা সংগ্রহ করেছি। কার চাল কিভাবে ওখানে গেল তা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এপর্যন্ত এসব অনিয়মের কারণে কয়েক জনের ডিলারশিপ বাতি করা হয়েছে। দু-জনের নামে মামলা হয়েছে।

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
ভাগ হয়নি ক' নজরুল
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

জাতীয় -এর সর্বশেষ

Hairtrade