Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৩ কার্তিক ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ১:০৭ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

থার্টি ফার্স্ট যেন ডার্টি ফার্স্ট হয়ে না যায়


৩০ ডিসেম্বর ২০১৭ শনিবার, ০৯:২০  পিএম

মনদীপ ঘরাই

বহুমাত্রিক.কম


থার্টি ফার্স্ট যেন ডার্টি ফার্স্ট হয়ে না যায়

 

ঢাকা : ৩০ দিনের ৪ টি মাস আর ফেব্রুয়ারি বাদ দিলে বাকি ৭ মাসেই আছে একত্রিশ দিন। অর্থাৎ থার্টি ফাস্ট। তাতে কি আসে যায়! অটোরিক্সাকে যেমন মানুষ গ্যাসের নামে (সিএনজি) ডাকে , তেমনি থার্টি ফার্স্টটা ডিসেম্বরের নামেই বরাদ্দ।হবেই বা না কেন?

থার্টি ফার্স্ট ডিসেম্বর একটা খেয়া নৌকার মতো। বিদায়ী বছরকে ওপারে পাঠিয়ে নতুন বছরকে এপারে নিয়ে আসার অতি পুরাতন কাজটি প্রতি বছর নতুন করে করতে হয় তাকে।

যে নদীতে এই খেয়াটা চলে তা হলো স্মৃতি আর আশার নদী। পুরাতন বছরের স্মৃতি আর নতুন বছরের আশা। বছর ব্যাপরটা আপেক্ষিক। আমরা যেভাবে মনে গাঁথি সেভাবেই বছর। বছর আমার কাছে একটা ধারণা মাত্র।

শুনতে বেখাপ্পা লাগতে পারে। এবার তবে খন্ডাই। আমার দাদু-ঠাকুমাদের দেখেছি বাংলা বছরের হিসেবে জীবন চালাতে। ইংরেজি বছরের অস্তিত্বই যেন তাদের জীবনে ছিল না। ঠিক উল্টোটা হয় নাগরিক জীবনে।

পহেলা বৈশাখ ছাড়া বাংলা ক্যালেন্ডারের হিসেবটাই মন থেকে ভ্যানিশ।আজব বটে। বিশ্বে কত ধরণের ক্যালেন্ডার আছে জানেন তো? ঠিকঠাক বলতে গেলে ৪০ রকমের। তবে, বছর ব্যাপারটাকে আপেক্ষিক বলে কি ভুল করলাম?

৪০ পদের ক্যালেন্ডারের প্রভাব আমাদের জীবনে নেই। নাগরিক জীবন ছুটছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পেছনে। তাই, থার্টি ফার্স্টকে চাইলেই এত সহজে এড়ানো যাবে না। কেউ কেউ বলবেন, এড়াতে চাইছে টা কে? সত্যিই তো। উদযাপন আর আনন্দের এত বড় সুযোগ ছাড়তে হয় না। এত কথা বললাম, ইতিহাসটাও একটু ঘেঁটে দেখি।

থার্টি ফার্স্ট পালন শুরু হয় ১৯০৭ সালে, ম্যানহাটানে। তারপরে ধীরে ধীরে ছড়িয়েছে বিশ্ব গোলকের সব পরিধিতেই। আমরাও অজান্তেই গিলেছি থার্টি ফার্স্টের ট্যাবলেট। গোড়াটা নব্বই এর দশকে। সেই থেকে আমরাও ‘বৈশ্বিক’ পরিচয়ে মেতে উঠি ইংরেজি নতুন বর্ষের উদযাপনে।

সারা বিশ্বে উদযাপনের ধরনেও আছে ভিন্নতা। চিলিতে হলদে পোশাকে বরণ করা হয় নতুন বছরকে। মেক্সিকো আর কোস্টারিকায় বারো মাসের প্রতীকস্বরূপ ১২ টা আঙ্গুর খেয়ে থার্টি ফার্স্ট এর উদযাপন শুরু করে।

সময়ের বৈচিত্রও আছে বৈ কি! বিশ্বে সবার আগে ইংরেজি বর্ষবরণ করে টোঙ্গা আর কিরিবাতি।অন্যদিকে অামেরিকার বেকার আইল্যান্ড নতুন বছরের আলোটা দেখে সবার শেষে।

রাত ১২টা ১ মিনিটে উদযাপন শুরু হয়,তাহলে নতুন বছরের আলোর কথা কেন বললাম! বাঙ্গালি অভ্যাস বলতে পারেন। বাঙ্গালীদের প্রায় সব পর্বই শুরু হয় সূর্যোদয়ের সাথে। অথচ এই আমরা ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলোর উদযাপনেও টেনে এনেছি পাশ্চাত্যের স্টাইল।বাংলা নববর্ষের গ্রিটিং মেসেজ আসে রাত ১২টা ১ মিনিটে!

শেষ করবো, একটা অপ্রিয় বিষয় দিয়েই। থার্টি ফার্স্ট এলেই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলতে হয় নগরী। এখানেই কষ্টটা। যারা বিশৃঙ্খলা ঘটায়, তারা তো কোনো না কোনো পরিবারের, কারো না কারো আত্মীয়-বন্ধু। সংযমের শুরুটা পরিবার বা বন্ধুমহল থেকে হলে সংশয় আর চিন্তাটা থাকতো না।

সুশৃঙ্খল বর্ষবরণ হোক সবার নতুন বছরের প্রথম প্রতিজ্ঞা। ‘থার্টি (Thirty) ফার্স্ট যেন ডার্টি (Dirty) ফার্স্ট হয়ে না যায়, এবারের বছর শুরু হোক হার্টি (Hearty) ফার্স্ট দিয়ে’ অর্থাৎ হৃদয়ের আহ্বানে হোক শালীন বর্ষবরণ। ‘স্বাগতম ২০১৮’

লেখক : সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এটুআই, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত। 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।