Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১০ আশ্বিন ১৪২৫, বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

তাহিরপুরে শিশুর আঙ্গুল কেটে দিল যুবলীগ নেতা


২০ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৩:০৩  এএম

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


তাহিরপুরে শিশুর আঙ্গুল কেটে দিল যুবলীগ নেতা
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ৫ বছরের শিশু ইয়ামিন মিয়ার ডান হাতের ৩টি আঙ্গুল কেটে দিয়েছে যুবলীগ নেতা ও ২৮নং পিআইসির সভাপতি আব্দুল অদুদ। বর্বরতার শিকার ইয়ামিন মিয়ার চিকিৎসার সকল ব্যায় ভার নিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলার সুযোগ পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান।

বিভিন্ন গণম্যামে খবরটি জোরালো ভাবে প্রকাশের পর তিনি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রাতে ছুটে যান এবং শিশুর চিকিৎসার খোজঁ খবর নেন। তাকে ও তার মা,বাবাসহ পরিবারের সবাইকে সান্তানা দিয়ে বলেন ইয়ামিন মিয়ার চিকিৎসার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সকল খরচ বহন করবেন। তখন তিনি শিশুটির মা দিলরাজ বেগমের হাতে নগদ ২০ হাজার টাকা ও নতুন কাপড় ও ফল তুলেদেন।

এসময় তিনি বলেন,আমি সহ আমার পুলিশ বাহিনী খুবেই মর্মাহত এই ঘটনা শুনে। তার বিষয়ে বার বার খোঁজ নিচ্ছেন মাননীয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি,পুলিশ প্রধান ও ডিআইজি মহোদয়। তিনি বলেন,আব্দুল অদুদ সে যত বড় ক্ষমতাশালী হোক যে দলেই করুক না কেন তাকে এই নির্মম বর্বরতার শাস্তি পেতে হবে। তাকে খুব দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে। কোন ছাড় পাবে না।

রোববার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাগন সহ ইয়ামিন মিয়াকে দেখতে যান। এবং তার সার্বিক বিষয়ে খোজঁ খরব নেন। এদিকে সুনামগঞ্জ ১আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন শিশু ইয়ামিন মিয়ার বাড়ি সোলাইমাননপুর গিয়ে তার স্বজনদের সান্তনা দেন এবং নগত ১০হাজার টাকা হাতে তুলে দেন।

এব্যাপারে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নন্দন কান্তি ধর জানান,এখন পর্যন্ত কেউ এই বিষয়টি নিয়ে কোন অভিযোগ করে নি। কিন্তু ঘটনার শুনার পর আমি এসপি স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ঐ পিআইসি প্রলাতক থাকায় থাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। গ্রেফতার করার চেষ্টা করছি। পুলিশ এঘটনায় আব্দুল অদুদ মিয়ার ছোট ভাই আলম মিয়া(৩০)কে রোববার রাতে আটক করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য,সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ৫বছরের শিশু ইয়ামিন মিয়ার ডান হাতের ৩টি আঙ্গুল কেটে দিয়েছে যুবলীগ নেতা ও ২৮নং পিআইসির সভাপতি আব্দুল আব্দুল অদুদ সুলেমানপুর গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে ও সাবেক যুবলীগনেতা,মহালিয়া বাধেঁর পিআইসি সভাপতি (নং ২৮) আহত শিশু উপজেলা দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের শাহানুর মিয়ার ছেলে ও সুলেমানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির ছাত্র। এঘটনার জানাজানি হলে জেলা ও উপজেলায় ব্যাপক তুলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বর আহত ইয়ামিন মিয়া সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়,গত শনিবার বিকালে ইয়ামিন মিয়া নিজেরদের গুরুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য ঘাস কাটতে মহালিয়া হাওরের ময়না খালি বাধেঁর উপর দিয়ে হেটেঁ যাচ্ছিল হাওরে। এমন সময় হঠ্যাৎ করেই সে বাধেঁর উপর থেকে গড়িয়ে বাঁধের নিছে পড়ে যায়। এতে নির্মানাধীন বাঁধের ড্রেসিং করা কাজে সামন্য ক্ষতি হয়। এসময় যুবলীগ নেতা ও ঐ বাঁধের পিআইসি সভাপতি অদুদ মিয়া বিষয়টি দেখতে পেয়ে ইয়ামিন মিয়ার কাছে গিয়ে মারধর করে এক প্রর্যায়ে হাতে থাকা ঘাস কাটার কাচিঁ কেড়ে নিয়ে হাতের ৩টি আঙ্গুল কেটে দেয়। এসময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে অদুদ মিয়া চলে যায়।

পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় ইয়ামিন মিয়াকে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। সন্ধ্যার পরে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে তাকে পাঠানো হয়। এবিষয়ে যুবলীগ নেতা ও ২৮নং পিআইসি অদুদ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি ইয়ামিন মিয়াকে আঘাত করে নি। বাধেঁর উপর দুষ্টামি করেছিল শাসন করেছি। হাতের আঙ্গুল অন্য কোন ভাবে কেটেছে। ইয়ামিন মিয়ার পিতা শাহানুর জানান,বাঁথে ক্ষতি হলে আমার কাছে বিচার দিত। আর এমন কি ক্ষতি হয়েছে থাকে এভাবে আঘাত করতে হবে। আমার ছেলের হাতের ৩টি আঙ্গুল কেটে দিয়েছে অদুদ। আমার ছেলে এখন লেখা পড়া করবে কি করে। আমি অদুদের বিরোদ্ধে মামলা করব।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।