Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

ডঃ অমিয় চৌধুরীর মৃত্যুতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর শোক


১৩ জুন ২০১৮ বুধবার, ১২:২৭  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


ডঃ অমিয় চৌধুরীর মৃত্যুতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর শোক

ঢাকা : বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অকৃত্রিম বন্ধু, পশ্চিমবঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট অধ্যাপক ডঃ অমিয় কে চৌধুরীর (অমিয় কুমার চৌধুরী) মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, এমপি। 

বুধবার এক শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, ‘‘ঊনিশ’ একাত্তরে অধ্যাপক অমীয় কে চৌধুরী তার সহকর্মী ও বন্ধুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেন। তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৩ সালের মার্চে ৬৯ বিদেশি বন্ধুর সঙ্গে অধ্যাপক ডঃ অমিয় কে চৌধুরীকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করা হয়।’’ 

‘তাঁর এই মৃত্যুতে বাংলাদেশ এক অকৃত্রিম বন্ধুকে হারাল। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রয়াত ডঃ চৌধুরীর অবদান বাংলাদেশের জনগণ চিরকাল মনে রাখবে। আমরা এই গুণী শিক্ষাবিদ ও কলামিস্টের প্রয়াণে গভীর শোক জানাচ্ছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’-বলেন আ ক ম মোজাম্মেল হক।  

গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ৬টা ৪০মিনিটে কলকাতার রুবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন পশ্চিমবঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট অধ্যাপক ডঃ অমিয় কে চৌধুরী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

প্রয়াত ডঃ অমিয় কে চৌধুরীর ভ্রাতুষ্পুত্র ও কলকাতায় সাপ্তাহিক আলিপুর বার্তার সম্পাদক ডঃ জয়ন্ত চৌধুরী বহুমাত্রিক.কম-কে জানান, ‘সোমবার ভোররাতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে কাকুকে জরুরি ভিত্তিতে কলকাতার রুবি হাসাপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান।’ 

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অধ্যাপক অমীয় কে চৌধুরী তার সহকর্মী ও বন্ধুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে তা তুলে দেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্নিত করতে। ২০১৩ সালের মার্চে একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো ৬৯ বিদেশি বন্ধুকে প্রদান করা ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রাপ্তদের মাঝেও প্রয়াত অমিয় কে চৌধুরীরও অন্যতম।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্য বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে ডঃ অমিয় কে চৌধুরীর হাতেও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। ওই অনুষ্ঠানে সম্মননা পাওয়া উল্লেখযোগ্য বিদেশি বন্ধুরা হলেন- কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ও যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লর্ড হ্যারল্ড উইলসন (মরণোত্তর), একাত্তরের পূর্ব রণাঙ্গনে ভারতীয় ও বাংলাদেশি যৌথ বাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু প্রমূখ।

পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক যজস্বী এই অধ্যাপক রাজ্যের উচ্চ শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি কলকাতাসহ ভারতবর্ষের প্রথম সারির সংবাদপত্রে সুদীর্ঘকাল সুনামের সঙ্গে কলাম লিখেছেন। বরেণ্য সমাজসেবক হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের দলমত নির্বিশেষে শ্রদ্ধেয় প্রয়াত অমিয় কে চৌধুরী।

কলকাতার মৌলানা আবুল কালাম আজাদ গবেষণাকেন্দ্রের সঙ্গেও ঘনিষ্টভাবে যুক্ত ছিলেন ডঃ অমিয় কে চৌধুরী। বাংলাদেশ ও বিহার নিয়ে তাঁর গবেষণাগ্রন্থ ঐতিহাসিক পরিমণ্ডলে সমাদৃত। তিনি কলকাতার প্রভাবশালী সাপ্তাহিক আলিপুর বার্তার প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে আমৃত্যু যুক্ত ছিলেন। 

বুধবার শেষকৃত্য

প্রয়াত ডঃ অমিয় কে চৌধুরীর শেষকৃত্য বুধবার কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হবে। এর আগে স্বজন-অনুরাগীদের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য গুণী এই শিক্ষাবিদ ও কলামিস্টের মরদেহ সকাল ১০-১১টা পর্যন্ত রাখা হবে কলকাতার গলফ গ্রিন দূরদর্শন কেন্দ্র সংলগ্ন উদয় সদন হলে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।