Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭, ৩:২১ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

জীবন সংগ্রামী বাউল সোহরাব হোসেন


১৪ মে ২০১৭ রবিবার, ০১:৪৮  এএম

সুতীর্থ বড়াল, ঝালকাঠি প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


জীবন সংগ্রামী বাউল সোহরাব হোসেন
ছবি: বহুমাত্রিক.কম

ঝালকাঠি : ‘পায় না খেতে যারা গাইত খেয়াল, টপ্পা, ঝানু গেয়ে গান হচ্ছে ধনি রাম শ্যাম আর কুমার পানু।’ দোতারায় সুর তুলে গান বাঁধেন, জাগিয়ে তোলেন মানুষের ঘুমন্ত হৃদয়কে। সংসারে তার নুন আন্তে পান্তা ফুরায়। তবু এতটুকু দমে যাননি। তিনি বাউল সোহরাব হোসেন।

যদিও প্রাথমিকের গন্ডি পার হওয়াই হয়নি তার, তবু গান বাঁধেন সমাজ, সংসার, দর্শন কিংবা আধ্যাত্মিকতায়। ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের বারুহার গ্রামের প্রয়াত ফজলে আলীর ছেলে সোহরাব হোসেন (৪৫)।

ছেলেবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি অনুরাগ। তাই গানের দলে মিশে গ্রামে গ্রামে ঘুরে গান গেয়ে বেড়াতেন তিনি। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর চোখের সামনে ভেসে ওঠে শর্ষেফুল। আর তাই কাঁধে নিতে হয় সংসারে জোয়াল। কিন্তু বসতবাড়ি ছাড়া ফসলি জমি না থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হয় তাকে।

আজন্মের সাধ আর অনেক সাধনার সুর যেন ভেসে যেতে চায় দারিদ্রের গাঙে। তবু গান ছাড়া যাবে না। তাই বেছে নিলেন হকারের পেশা। বিভিন্ন হাটে বাজারে হারবাল আর ঔষধি চিকিৎসা নিয়ে সংসার চালাতে শুরু করেন। আজও চলছে। সাথে সেই দোতরা আর বাঁশি আজও পিছু ছাড়েনি তার।

গান গেয়ে ঔষধ বিক্রি করে চলে জীবন জীবিকা। স্ত্রী আর ৪ সন্তান নিয়ে প্রতিদিনই সংগ্রামকে বুকে চেপে ভোর হয়। তবুও দমেনি এই বাউল শিল্পী। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকা সোহরাব এখন নিজেই লেখেন, নিজেই সুর করেন।

বিভিন্ন হাটে-বাজারে ঔষধ বিক্রি করে আর গান গেয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। এই বাউল শিল্পী তার অসাধারণ কন্ঠ দিয়ে বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় গান করেন। বরিশালের আঞ্চলিক ভাষার এ গানকে গোটা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই তার এ প্রয়াস। কেবল তাই নয়, গান বেঁধেছেন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, বাল্য বিয়ের কুফলসহ জনস্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও তিনি গান গেয়েছেন।

বাউল সোহরাব বাঁশের বাঁশিতে দারুণ সুর তোলেন। তার সংগ্রহে আছে শতাধিক বাঁশি। ঠোঁট ছাড়াও নাক দিয়েও তিনি চমৎকার করে বাঁজাতে পারেন এ বাঁশের বাঁশি। পথে-ঘাটে-মাঠে মানুষের মাঝে আলো ছড়িয়ে বেড়ালেও সোহরাবের নিজের ঘর অন্ধকার। দারিদ্র তাকে আজও পিছু ছাড়েনি।

বেসরকারি টেলিভিশন সময় নিউজ, এটিএন বাংলা, একুশের দেশ জুড়েতেও তাকে নিয়ে খবর হয়েছে। বরিশাল বেতারের দোতারার শিল্পী হিসেবে গণসচেতনতামূলক বহু অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি। যদিও দামি পোশাক পরিচ্ছেদ বা পয়সা কড়ি নেই এই বাউল শিল্পীর। তাই জেলার বড় বড় সব সাংস্কৃতিক মঞ্চে তার স্থান হয় না বলে জানান বাউল সোহরাব। তবুও সমাজের মানুষ আর মাটির জন্য গান বাঁধবেন, গাইবেন আলো ছড়ানোর গান, বলেন বাউল সোহরাব।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

বেঁচে থাকার গল্প -এর সর্বশেষ

Hairtrade