Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ২:২৭ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

জীবনযুদ্ধে জয়ী প্রতিবন্ধি হাসান এখন শত যুবকের প্রেরণা


২৮ অক্টোবর ২০১৭ শনিবার, ১২:১১  এএম

আবদুল ওহাব, বগুড়া প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


জীবনযুদ্ধে জয়ী প্রতিবন্ধি হাসান এখন শত যুবকের প্রেরণা
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

বগুড়া : প্রতিবন্ধি হয়েও জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার প্রতিবন্ধি হাসান। মাত্র ৮ হাজার টাকার পুঁজি দিয়ে মুরগীর খামার করে তিনি এখন ৩০ লক্ষাধিক টাকার মালিক। রয়েছে আরও উজ্জল সম্ভাবনা।

প্রতিবন্ধি হাছান উপজেলার খরনা বাঁশগাড়ী গ্রামের ইনসান আলীর ছেলে। তিনি জানিয়েছেন, জীবনে বেঁচে থাকতে হলে স্বাবলম্বীতার বিকল্প নেই। এই চিরন্তন সত্যকে বুকে ধারণ করে সদিচ্ছা, মেধা ও আত্মপ্রত্যয়কে পুঁজি করে তার এই পথচলা। তাইতো হাসানের উদ্যোগ ও একাগ্র চেষ্টাই তাকে পৌছে দিয়েছে সফলতার এই স্বর্ণের দুয়ারে। তার সফলতার এই বাস্তবচিত্র দেখে গ্রামের অনেক বেকার যুবক এখন উৎসাহী হয়ে গড়ছেন কৃষি খামার।

হাসান জানান, প্রতিবন্ধি হয়ে পরনির্ভরশীল না হয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে ২০১০ সালে মাত্র ৮ হাজার টাকা নিয়ে তিনি ২০০ পিছ বয়লার মুরগী ক্রয় কর্ েখামার শুরু হরেন। এছাড়া মুরগীর খাদ্য ও পরিচর্যা সহ সব মিলে তার প্রায় ২০ হাজার টাকার মত খরচ করে একাজে মনোনিবেশ করেন। প্রথম বছরেই তিনি প্রায় ৩০ টাকার বেশী মুরগী বিক্রি করেন। আর লাভের মুখ দেখে উৎসাহী হয়ে যুব উন্নয়ন থেকে হাঁস-মুরগী গবাদী পশুর উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মচাঞ্চল্য আরও বৃদ্ধি করে দেয় হাসানের আগামী পথচলাকে।

একপর্যায়ে হাসান শাজাহানপুর যুব উন্নয়ন অফিস থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋন গ্রহন করেন। এরপর তাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। ঋণ, মুলধন ও লভ্যাংশের সব টাকা দিয়ে তিনি বড় করে খামার তৈরী করেন। দেখতে থাকেন লাভের মুখ। তাই সে মুরগী খামারের পাশাপাশি ১ একর জমির একটি পুকুর লিজ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছেন।

খামারি হাসান জানান, বর্তমানে তার মুরগীর খামারে ২ টি বড় সেডে প্রায় ৩০০০ হাজার পাকিস্তানি সোনালী প্যারেন্টস জাতের মুরগী রয়েছে। যার মুল্য প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকা। পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষাধিক টাকার। তিনি জানান, বর্তমানে মুরগীর খাদ্যে দৈনিক ১২০০০ টাকা এবং পুকুরে মাছের খাদ্যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকার মত খরচ হয়। আর এসব দেখাশুনা ও পরিচর্যা করার জন্য তিনি ২ জন শ্রমিক ১৬০০০ টাকা মাসিক বেতনে নিয়োগ দিয়েছেন।

হাসানের মুরগীর বয়স এখন প্রায় ৩ মাস। আর ২ মাস পর মুরগীগুলো ডিম দিবে। ৩ হাজার মুরগীর মধ্যে দৈনিক আড়াই হাজার ডিম উৎপাদন হবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি জানান, এসব ডিম শুধুমাত্র বাচ্চা উৎপাদনের জন্য ব্যাবহৃত হয়। তাই এগুলো ১টি ডিমের দাম ১৮ থেকে ২০ টাকা। সেক্ষেত্রে দৈনিক ২৫০০ ডিম থেকে তার সাড়ে ৪ হাজার টাকা আয় হবে। আর ডিম থেকে মাসে আয় হবে ১ লক্ষাধিক টাকা। এছাড়া ক’দিন পরেই ৩ একরের পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ বিক্রি করে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকা আয় করবেন বলে হাসান আশা প্রকাশ করছেন। এভাবেই স্বাবলম্বী হয়ে সম্ভাবনাময় সোনালী স্বপ্রে ভুবনে প্রবেশের দ্বার উন্মুক্ত করছেন প্রতিবন্ধি হাসান।

প্রতিবন্ধি হাসানের সফলতার এ চিত্র দেখতে গত ২৫ অক্টোবর শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও সমবায় কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমান তার এসব খামার পরিদর্শনে যান। তারা তার এ সথলতার বাস্তব চিত্র দেখে মুগ্ধ হন এবং ভুয়সী প্রশংসা করেন। সেই সাথে তাকে সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার এই সফলতা সকলের জন্য অনুকরণীয়।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

বেঁচে থাকার গল্প -এর সর্বশেষ

Hairtrade