Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
২ ভাদ্র ১৪২৫, শুক্রবার ১৭ আগস্ট ২০১৮, ৭:০০ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

জাককানইবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি 


১৮ মে ২০১৮ শুক্রবার, ০১:২২  এএম

সজীব আহমেদ, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


জাককানইবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি 
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

ত্রিশাল, ময়মনসিংহ : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাসমূহ দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। 

সম্প্রতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ভাংচুর ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকের উপর বর্বরোচিত হামলার প্রেক্ষিতে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় কনফারেন্স রুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সম্প্রতি গাড়ি ভাংচুর, দুর্বৃত্তদের হামলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দায়ী এবং প্রকৃত দোষীদের খোঁজে বের করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত কার্যদিবস সময় দিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘যারা ইতোমধ্যে তাঁদের তদন্ত কাজ শুরু করে দিয়েছেন। বিভিন্ন মহল কর্তৃক করা মামলায় যাতে কোন শিক্ষার্থীর কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে নজর ও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।’

উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও শৃংখলার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাসমূহ দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘হামলাকারীদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা আমাদের এই প্রতিষ্ঠানকে অস্থিতিশীল করতে চেষ্টা করছে বা করবে তাদেরকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না।’

রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোঃ হুমায়ুন কবীরের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ সমূহের ডিনগণ, বিভাগীয় প্রধান, দপ্তর প্রধান, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

উল্লেখ্য, ১৩ মে রোববার বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ময়মনসিংহ শহরে যাওয়ার পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেলতলী নামক স্থানে মালবাহী ট্রাকের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বহনকারী একটি সিভিলিয়ান গাড়িকে পিছনের ডান দিকে বালি বহনকারী একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে ওই গাড়ীটির একটি বিরাট অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরে ওই স্থানে ময়মনসিংহ শহর থেকে আসা ছাত্রদের বহনকারী একটি বড় বাস এলে সেটিকেও আরেকটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে বাসের ভিতরে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং শিক্ষার্থীরা ট্রাক আটকিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। কিন্তু ট্রাক ড্রাইভার উক্ত এলাকার হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণের সাথে গায়ের জোড়ে অনাকাংখিত তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী আরেকটি গাড়ী এসে দাঁড়ায়। কোনকিছু বুঝে উঠার আগেই ট্রাক ড্রাইভারের ডাকে তৎক্ষণাৎ বেশকিছু গ্রামবাসী এবং পরিবহন শ্রমিক অতর্কিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ টি গাড়ী ভাংচুর করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। এই হামলায় শিক্ষক সহ ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং একাদিক শিক্ষার্থী এখনো হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হামলায় বেশ কিছু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করে। উক্ত ঘটনার জের হিসেবে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিশ্ববিদ্যালয় গেটের কাছে জিরো পয়েন্ট এবং বেলতলী এলাকায় ৩ ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ঐদিনের মতো পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন ১৪ মে সোমবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে আবারো দুর্ঘটনাস্থল বেলতলীতে জড়ো হয়ে ৬ ঘন্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে এবং সেখানে আস্তে আস্তে আরো জনসমাগম বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তারা প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠে এবং এসময় তারা রাস্তা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ, প্রক্টরিয়াল বডি, শিক্ষক সমিতি, জেলা পুলিশ সুপার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসক হিসেবে উপাচার্য মহোদয়ের মটিভেশনাল বক্তব্যে এবং একটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃস্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।

এরই মধ্যে খবর পাওয়া যায় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নামধারী কে বা কারা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এটিএন বাংলা এবং যমুনা টেলিভিশনের দুইজন সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সাংবাদিকবৃন্দ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে গিয়ে তাদের মধ্যেও দুজন আহত হন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানতে পেরে তাৎক্ষণিক একটি প্রতিনিধিদল প্রেরণ করে তাদের খোজ খবর নেন এবং তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি শৃংখলার সার্বিক দিক বিবেচনায় চলমান আন্দোলনকে নিরাপদ ও নিস্ক্রিয় করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা তিনদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় সাংবাদিকবৃন্দ বিক্ষুব্ধ হয়ে তারা ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে মানববন্ধন করেছেন। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে একজন সিনিয়র সাংবাদিক কালের কণ্ঠের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি নিয়ামুল কবীর সজল কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা আবারও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং তারাও ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সামনে এবং একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে।

সাংবাদিকের এহেন মন্তব্যে তখন শিক্ষকগণও অপমানিত বোধ করে বিবৃতি প্রদান করেন। পরে অবশ্য তিনি তাঁর বক্তব্যের জন্য ফেসবুকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বরাবর লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাতে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হয়। কিন্তু পরে জানা যায় কয়েকজন বহিরাগত মিলে ময়মনসিংহে ৫০০ জন এবং ত্রিশালে ৫০ জন অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের নামে একাধিক মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা আবারো বিক্ষুব্ধ হয়ে যায়।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
ভাগ হয়নি ক' নজরুল
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

শিক্ষা -এর সর্বশেষ

Hairtrade