Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

চোরাই কয়লার ‘অংশবিশেষ’ জব্দ, ছেড়ে দেওয়া হল পাচারকারীদের


৩০ আগস্ট ২০১৭ বুধবার, ০৭:৫২  পিএম

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


চোরাই কয়লার ‘অংশবিশেষ’ জব্দ, ছেড়ে দেওয়া হল পাচারকারীদের
ছবি: বহুমাত্রিক.কম

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিয়াঘাট সীমান্ত চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় লালঘাট এলাকার দিয়ে ভারত থেকে চোরাই পথে পাচার করা ২৫০বস্তা কয়লার মধ্যে ৮০বস্তা (৫০ কেজি ওজনের) চোরাই কয়লা আটক করেছে বিজিবি। কিন্তু সুযোগ পেয়েও চোরাকারবারিদের আটক না করার অভিযোগ উঠেছে।

বৈধ কয়লা ও চুনাপাথর ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের লাকমা ও লালঘাট এলাকার ১০টি চোরাই পথ দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে অবাধে কয়লা, চুনাপাথর, সাদা পাথরসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য পাচার হচ্ছে।

তারা জানান, চাঁদাবাজি মামলার আসামী বিজিবির সোর্স পরিচয়ধারী দুধের আউটা গ্রামের জিয়াউর রহমান জিয়া, লালঘাট গ্রামের একাধিক চোরাচালান-বিজিবির ওপর হামলা ও চাঁদাবাজি মামলার আসামী কালাম মিয়া, একাধিক চোরাচালান মামলার আসামী আব্দুর রাজ্জাক ও তাদের সহযোগী লাকমা গ্রামের চোরাচালানি আব্দুল হাকিম ভান্ডারী, তিতু মিয়া, রতন মহলদার, মানিক মিয়া ও হাসান আলী পীরসহ সংঘবদ্ধ একটি চক্র এসব চোরালানের সঙ্গে জড়িত।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিদিনের মতো গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চোরাকারবারি হাসান আলী পীর ও কালাম মিয়া লালঘাট এলাকা দিয়ে ভারত থেকে ২৫০বস্তা কয়লা পাচার করে হাসান আলী পীরের বাড়ির পিচনে মজুদ করে। পরে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৮০বস্তা কয়লা আটক করলেও বাকি কয়লার বস্তাগুলো ছেড়ে দিলে চোরাকারবারিরা ইঞ্জিনের নৌকা দিয়ে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সামনে অবস্থিত দুধেরআউটা গ্রামের জিয়াউর রহমান জিয়ার বাড়ির সামনে নিয়ে বিক্রি করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাচারকৃত মালামালের মধ্যে চোরাই কয়লার প্রতি বস্তা থেকে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের নামে ৭০ টাকা, টেকেরঘাট কোম্পানি কমান্ডারের নামে ৩০টাকা, থানার নামে ৫০টাকা, কাস্টমসের নামে ৫০টাকা, দুই সাংবাদিকের নামে ২০টাকা ও রাস্তা মেরামতের নামে ৫০টাকাসহ মোট ২৮০টাকা চাঁদা দেওয়া হচ্ছে।

সূত্রের দাবি, প্রতি ট্রলি চুনাপাথর থেকে বিজিবির ২ ক্যাম্পের নামে ২৫০টাকা, থানার নামে ১২০টাকা, সাংবাদিকদের নামে ৮০টাকা, কাস্টমসের নামে ১০০টাকাসহ ৫৫০টাকা ও টেকেরেঘাট ও লাকমাছড়া দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন ৩শ থেকে ৪শ ট্রলি বল্ডার ও সিংগেল পাথর পাচার করার জন্য প্রতি ট্রলি পাথর থেকে বিজিবির ২ ক্যাম্পের নামে ১০০টাকা, থানার নামে ৭০টাকা, সাংবাদিকের নামে ২০টাকাসহ ২০০টাকা চাঁদা নিচ্ছে জিয়াউর রহমান জিয়া, কালাম মিয়া, আব্দুল হাকিম ভান্ডারী ও তিতু মিয়া।

গত শনিবার লাকমা সীমান্ত দিয়ে চোরাই কয়লা পাচারের সময় ট্রলির নিচে স্পৃষ্ট হয়ে শাহআলম(৩৫) নামের এক যুবক নিহত হয়। গত বুধবার দুপুর ১টায় হাসান আলী পীর ও কালাম মিয়া নেতৃত্বে ভারত থেকে চোরাই কয়লা পাচার করার সময় লালঘাট গ্রামের মতিউর রহমান (৪৫) নামের এক চোরাচালানীকে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় বিএসএফ।

এছাড়া গত বছরের এই সময় বালিয়াঘাট গ্রামের চোরাচালানি আব্দুর রাজ্জাক ও কালাম মিয়ার নেতৃত্বে লালঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে কয়লা পাচার করার সময় চোরাই কয়লার গুহায় মাটি চাপা পড়ে বশির মিয়া (২৮) নামের এক চোরাচালানীর মৃত্যু হয়। তার আগে লাকমা সীমান্ত দিয়ে জিয়াউর রহমান জিয়া ও আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ভারত থেকে কয়লা পাচার করার সময় চোরাই কয়লার গুহায় মাটি চাপা পড়ে আরো ২ চোরাচালানীর মৃত্যু হয়।

এব্যাপারে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার ফিরোজ বলেন, এসব ব্যাপারে এত লেখালেখি না করে ক্যাম্পে আসুন আলোচনার মাধ্যমে সব কিছুর সমাধান করি।

সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক নাসির উদ্দিন বলেন, সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Pushpadum Resort
Intlestore

অসঙ্গতি প্রতিদিন -এর সর্বশেষ

Hairtrade