Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৮ আশ্বিন ১৪২৫, রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১:১৮ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

চা বাগানে ও কৃষিজমিতে স’মিলে পরিবেশের ক্ষতি


১৭ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০২:৩৯  এএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


চা বাগানে ও কৃষিজমিতে স’মিলে পরিবেশের ক্ষতি
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

মৌলভীবাজার : চা বাগান, বনাঞ্চল, পাহাড়-টিলা ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান অধ্যূষিত মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে স’মিল (করাতকল)। জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলায় বৈধ, অবৈধ মিলিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক স’মিল রয়েছে। চা বাগানের কারখানার বাউন্ডারী দেয়ালের ভেতরে অবৈধ স’মিল স্থাপন করে বাগানের গাছ চিরানো হচ্ছে।

এসব স’মিল সমুহে নিধন হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, চা বাগানসহ অন্যান্য স্থানের মূল্যবান গাছ গাছালি। ফলে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে বাগানের ভেতরে স্থাপিত স’মিলটি অনুমতি প্রাপ্ত বলে দাবি করেছেন বাগান ব্যবস্থাপক। সরেজমিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

মৌলভীবাজার বনবিভাগ অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতটি উপজেলা মিলিয়ে প্রায় অর্ধসহস্রাধিক স’মিল রয়েছে। এর মধ্যে বৈধ ও অবৈধ স’মিল থাকলেও অনেকেই উচ্চ আদালতে মামলা দিয়ে টিকিয়ে আছেন। তাদের বিরুদ্ধে কার্যত কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। রাজকান্দি বন রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলায় মোট ৪৩টি স’মিল রয়েছে। এরমধ্যে মালিক পক্ষের দেয়া উচ্চ আদালতে মামলাধীন রয়েছে ৯টি।

সম্প্রতি উপজেলা সদরে একটি ও পতনউষারে দু’টি নতুন স’মিল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স’মিল সমুহে প্রতিদিন বৈধ, অবৈধ হাজার হাজার ঘনফুট কাঠ চিরানো চলছে। রাজকান্দি রেঞ্জের অধীনে আদমপুর, কুরমা, কমলগঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও ১৪টি চা বাগান ও ফাঁড়ি মিলিয়ে ২২টি চা বাগানের সেকশন থেকে চোরাই পথে পাচার হওয়া বৃক্ষরাজি অধিকাংশ সময়ে স’মিলে নিয়ে চিরানো হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কাঠচোর সিন্ডিকেট চক্র বনবিভাগ ও চা বাগানের অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারীর সাথে যোগসূত্র স্থাপন করে পাচার করছে গাছগাছালি। স’মিল সমুহের বদৌলতে চোরাইকৃত কাঠ দ্রুত চিরানোর পর তা স্থানান্তর করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ডানকান ব্রাদার্স আলীনগর চা বাগান কারখানার বাউন্ডারী দেয়ালের মধ্যেই ভেতরে আলাদা একটি ঘরে অবৈধ স’মিল স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে বাগানের নিজস্ব কাঠ চিরানো হচ্ছে। মিলের সম্মুখে আকাশি, কড়ই সহ বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকটি গাছের খন্ডাংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। চা বাগানের বিভিন্ন সেকশন থেকে আনা গাছের খন্ডাংশ এখানেই চিরানো হয়।

উপজেলার পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নে বৈধ, অবৈধ স’মিলের পাশাপাশি সম্প্রতি সময়ে পতনঊষারে রাস্তার পাশে কৃষিজমির উপর আরও নতুন দু’টি স’মিল স্থাপন করা হয়েছে। আইনে নিষেধ থাকলেও কৃষিজমির উপর অবাধে স’মিল স্থাপন করা হচ্ছে। অভিযোগ বিষয়ে পতনঊষার আসাদ স’মিলের কেয়ারটেকার আব্দুল মালিক বলেন, বনবিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের অনুমতিপত্র নিয়েই সম্পূর্ণ বৈধভাবে চালু করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলীনগর চা বাগানের দু’জন শ্রমিক বলেন, চা বাগানের কারখানার পেছনে এই স’মিলে দীর্ঘ বারো, তের বছর ধরে বাগানের কাঠ চিরানো হয়। তবে ২০০৭ সনে জরুরী অবস্থা শুরু হলে স’মিল খুলে রাখা হয়। জরুরী অবস্থা শেষ হওয়ার পরেই আবার স’মিল বসিয়ে ধারাবাহিকভাবে সেকশনের গাছ এনে চিরানো হয়। তারা আরও বলেন, চা বাগানের একটি সিন্ডিকেট চক্র ম্যানেজমেন্টের কতিপয় ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় এই স’মিলের বদৌলতে অবৈধ ব্যবসাও চালিয়ে যাচ্ছেন।

কমলগঞ্জের রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আবু তাহের বলেন, চা বাগানে পূর্বে এক সময় কোম্পানির নিজেদের প্রয়োজনের স’মিল স্থাপন করেছিল। গত কয়েক বছর পূর্বে এটি বাতিল হয়ে গেছে এখন আর কোন চা বাগানে স’মিল থাকার কথা নয়। তাছাড়া উপজেলার ৯টি স’মিলের মালিক উচ্চ আদালতে মামলা দেয়ায় সে বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। অন্যান্য মিলগুলো বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সিলেট বিভাগীয় বনকর্মকর্তা আর.এস.এম.মনিরুল ইসলাম বলেন, কৃষিজমির উপর স’মিল স্থাপন সম্পূর্ণ নিষেধ। কৃষিজমির উপর ও আলীনগর চা বাগান কারখানার ভেতরে স’মিল স্থাপন সহ অন্যান্য সকল স’মিলের কার্যক্রম বিষয়ে তদন্তক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।