Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১:১২ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

চালু হচ্ছে কয়রার আবহাওয়া কেন্দ্র :দেবে আগাম সতর্কবার্তা


১১ জুলাই ২০১৮ বুধবার, ০৩:৩৭  পিএম

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


চালু হচ্ছে কয়রার আবহাওয়া কেন্দ্র :দেবে আগাম সতর্কবার্তা
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

খুলনা : খুলনা জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলায় শিগগির চালু হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক আবহাওয়া অফিস। এই আবহাওয়া অফিস ঘুর্ণিঝড়ের আগাম নৌ সর্তকতা দিতে পারবে। এখন নৌ সর্তক বার্তা দেয়া হয় কেন্দ্রীয় আবহাওয়া অফিস থেকে। কয়রা আবহাওয়া অফিস চালু হলে আর ঢাকার উপর নির্ভর করতে হবে না দুর্যোগপ্রবন দক্ষিণাঞ্চলকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় জনপদের মানুষের জন্য দুর্যোগের আগাম সতর্কাবার্তা পৌছে দেয়ার উদ্দেশ্যে সরকারি ভাবে উপকূলীয় এলাকায় ২০০৮ সালে ১৩টি আবহাওয়া অফিস নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলায়ও একটি আবহাওয়া অফিস নির্মাণ করা হয়েছে।

অফিসটির নির্মাণ কাজ দুই বছর আগে সম্পন্ন হলেও আজো তার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। ইতোমধ্যে আবহাওয়া াফিসটিতে জনবল দেয়া হয়েছে। চলে এসেছে আনুসঙ্গিক যন্তপাতিও। তবে দাপ্তরিক কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। উপকূলীয় এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় প্রাকৃতির দুর্যোগের আগাম সতর্ক বার্তা পৌছে দেয়ার সরকারি এ উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে।

কয়রার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ঢালী শাহাবুদ্দীন বলেন, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে শতাব্দীর ভয়াবহ সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হানে দেশের উপকূলীয় এলাকায়। সে সময় কয়রা উপজেলায় ২৬ জন লোকের প্রাণহানি ঘটে। জীবিকার তাগিদে সুন্দরবন অভ্যন্তরে যাওয়া ভাগ্যাহত অসংখ্য জেলে বাওয়ালীর মৃত্যু হয় সে রাতে। সে ধবংস যজ্ঞের রেশ কাটতে না কাটতেই ২০০৯ সালে ২৫ মে সর্বগ্রাসী আইলা এসে হানা দেয় উপকূলীয় এলাকায়। এতে প্রান হারায় কয়রা অর্ধশতাধিক মানুষ। ক্ষতির পরিমান কেউ নিরুপন করতে পারেনী।

এ ছাড়া ২০১৩ সালের জুন মাসে চলে গেল মহাসেন নামের দুর্যোগ। কয়রা এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা শফিকুল ইসলাম বলেন, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বার বার এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে এ অঞ্চলের মানুষ হারিয়েছে তাদের স্বজন এবং সহায় সম্পদ। আজ অনেকেই নিঃস্ব। এ সব প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া গেলে জান মালের ক্ষতির পরিমাণ কমতো।

খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ মোঃ আমিরুল আযাদ বলেন, পর পর দুটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংগঠিত হওয়ার পর উপকূলীয় এলাকার মানুষের নিরাপত্তার বিয়য়টি বিবেচনা করে সরকারি বেসরকারি নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়। এর মধ্যে দুর্যোগের খবরটি তাৎক্ষনিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এলাকা ভিত্তিক আবহাওয়া অফিস নির্মাণটি উল্লেখযোগ্য। সেই পরিকল্পনা অনুয়ায়ী এটি তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান। আবহাওয়াবিদ আমিরুল আযাদ আরও জানান, কয়রা আবহাওয়া অফিসটিতে ইতোমধ্যে প্রয়াজনীয় যন্ত্রপাতি চলে এসেছে। এ মাসেই ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞরা এসে সেটি স্থাপন করে যাবে।

এই অফিসে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ২ জন সিনিয়র অবজারভারসহ ৯ জনের জনবল থাকবে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।