Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৭ আশ্বিন ১৪২৫, রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪:৪১ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

ঘিওরে বৃদ্ধি পাচ্ছে বায়োগ্যাস প্লান্টের চাহিদা


১৫ মে ২০১৮ মঙ্গলবার, ১২:০৭  পিএম

এম শাহীন আলম, ধামরাই প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ থেকে

বহুমাত্রিক.কম


ঘিওরে বৃদ্ধি পাচ্ছে বায়োগ্যাস প্লান্টের চাহিদা
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় বায়োগ্যাস প্লান্টের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে ইমপ্যাক্ট (ফেজ-২) নামের প্রকল্পটি সারাদেশের ৬৪টি জেলার মোট ৬৬টি উপজেলায় বলবৎ রয়েছে, প্রকল্পটি গ্রাহক পর্যায়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

উপকারভোগী গ্রাহকরা বলছে, বায়োগ্যাস ব্যবহারে সহজলভ্য আর জ্বালানী খরচ শাস্ত্রয়ের কারনে মূলত গ্রাহক পর্যায়ে এর ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকি এবং গ্রাম পর্যায়ে বায়োগ্যাসের উপকারিতা সম্পর্কে ব্যাপক সচেনতা তৈরির ফলেই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে আগ্রহী হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষ। সেই সাথে সহজ শর্তে ঋন সুবিধা আর গ্রাহক পর্যায়ে সরকারি ভর্তুকির বিষটি বিবেচনায় এনে সবাই এতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

গ্রাহকরা আরও জানায়,বায়োগ্যাস স্থাপনের ফলে দৈনন্দিন রান্না-বান্না নগর জীবনের মত গ্রাম অঞ্চলেও বেশ সহজ হয়ে গেছে। সেই সাথে বায়োগ্যাসে ব্যবহৃত গোবর বা মুরগির বিষ্ঠা থেকে তারা উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার এবং মাছের খাবার পাচ্ছে। এতে করে জমির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ফসল উৎপাদনে খরচ কমেছে এবং সেইসাথে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা রাখছে বায়োগ্যাস।

ঘিওর উপজেলার পয়লা গ্রামের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনকারী আব্দুস সালাম বলেন, আমি একজন কৃষক ৬টি গরু আছে আমার আর সেই গরুর গোবর নির্ভর বায়োগ্যাস স্থাপন করেছি। আগে গোবর গুলো রাস্তায় শুকাতাম এতে করে পরিবেশের ক্ষতি হত পরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করি। এখন এ গোবর থেকেই গ্যাস পাচ্ছি আমার নিজের বাড়িতে রান্নার পাশাপাশি আরো ২টি বাড়ীতে গ্যাস লাইন সংযোগ দিয়ে ৬শ ও ৬শ করে মাসে মোট ১২শ টাকা পাচ্ছি। এতে করে আমার জ্বালালী খরচ শাস্ত্রয় হয়েছে ও এক্সট্রা ইনকাম হচ্ছে। পাশাপাশি বায়োগ্যাসে ব্যবহৃত গোবর জৈব সার হিসেবে সরক্ষন করছি এবং তা বাজারজাত করার কথা ভাবছি।

তিনি বলেন, প্রকল্পের একদিনের একটি ওরিয়েন্টেশন প্রগ্রামের মাধ্যমে আমি বায়োগ্যাস ও তার উপকারিতার কথা জানতে পারি। এরপর কর্মকর্তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে আমি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করি। প্লান্ট নির্মান থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই উক্ত প্রকল্পের উপজেলা বায়োগ্যাস ইঞ্জিনিয়ার নিয়মিত তদারকি করেছেন।

ঘিওর পূর্বপাড়ার বেলাতুন বেগম বলেন, আমার প্লান্টটি মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে চলে প্ল্যান্ট স্থাপনের আগে মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধ্যের কারণে প্রায়ই আশ পাশের লোকজনের গালি খেতে হতো। এখন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের পর সেই দুর্গন্ধ প্রায় ৯০শতাংশে কমে এসেছে এবং এতে উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে নিজের রান্না-বান্নার পাশাপাশি জেনারেটরের সাহায্যে খামারে লাইট ও ফ্যান চালাচ্ছি। আগে রান্নাঘরে রান্না রেখে কোথাও যেতে পারতাম না এখন গ্যাসে রান্না বসিয়ে বাচ্চাদের পড়াতে পারি।

তিনি আরো বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম সরকারি কাজ অনেক জটিল ও ঝামেলাপূরন কিন্তু কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা এবং প্রতিশ্রুতি পেয়ে প্লান্ট স্থাপনে আগ্রহী হই। প্ল্যান্টের কাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কর্মকর্তারা নিয়মিতই আমার এখানে ভিজিট করেছেন।

এ ব্যাপারে ঘিওর উপজেলার উপজেলা বায়োগ্যাস সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার তৌফিক-উর-রহমান বলেন, বায়োগ্যাসের উপকারিতা,স্থাপন ও রক্ষনাবেক্ষন সম্পর্কে আমরা প্রকল্পের আওতাধীন এলাকায় নিয়মিত উঠান বৈঠক করে যাচ্ছি। এতে করে এলাকায় মানুষের মধ্যে বায়োগ্যাস স্থাপনের প্রতি আগ্রহ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্লান্ট স্থাপনে আগ্রহীদের আমরা সরকারি ভাবে কারিগরি ও আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকি। পাশাপাশি তাদেরকে সহজ শর্তে ঋন সুবিধা দিয়ে থাকি ।

তিনি বলেন, প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীলতা কমানো পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সেইসাথে গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা আর বায়োগ্যাস হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর অন্যতম উৎস। আমরা এই বিশ্বায়নের যুগে অনেকেই জানিনা যে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ আজকে বায়োগ্যাসের তথা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যাবহারের উপর বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে যেমন চীনের গুয়াংজু প্রদেশে একটি বাড়ি নির্মাণের পূর্ব শর্ত হচ্ছে বাড়িতে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা অন্যথায় বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়না। অন্যদিকে যদি ইউরোপের কথা বলি তাহলে প্রথমেই বলতে হয় জার্মানির কথা কেননা আমাদের দেশে যতটুকু জমিতে প্রতি বছর ভুট্রা চাষ হয় ঠিক ততটুকু জমিতে জার্মানিতেও ভুট্রা আবাদ হয় মজার ব্যাপার হচ্ছে আমরা ভুট্রা গাছ জমিতে শুকিয়ে জ্বালানি বানায় আর ওরা সেই পরিমান ভুট্রা গাছ দিয়ে বায়োগাসের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে জার্মানির ২০শতাংশ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাচ্ছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি আমরাও একদিন পারবো ইনশাআল্লাহ।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা খন্দকার বলেন, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট সাধারন মানুষের রান্না বান্নায় সহজলভ্য করেছে। সাধারন মানুষ এ প্ল্যান্টে আগ্রহী হচ্ছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।