Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

খুলনায় ওসিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা


০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৭:২৬  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


খুলনায় ওসিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

খুলনা : খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের নামে আদালতে মামলা দাযের করা হয়েছে।

নগরীর খালিশপুর থানার নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনীর মো. জাকির হোসেনের স্ত্রী রেনু বেগম বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দাবিকৃত দেড় লাখ টাকা না পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা যোগসাজসে তার ছেলে মো. শাহ জালালের দু’টি চোখ উৎপাটন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন; খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খান, এসআই রাসেল, এসআই তাপস রায়, এসআই মোরসেলিম মোল্লা, এসআই মিজান, এসআই মামুন, এসআই নূর ইসলাম ও এএসআই সৈয়দ সাহেব আলী এবং আনসার সদস্য (সিপাই) আফসার আলী, আনসার ল্যান্স নায়েক আবুল হোসেন ও আনসার নায়েক রেজাউল এবং অপর দু’জন খালিশপুর পুরাতন যশোর রোড এলাকার সুমা আক্তার ও শিরোমনি বাদামতলা এলাকার লুৎফুর হাওলাদারের ছেলে রাসেল।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই বাদির ছেলে মো. শাহ জালাল তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে পিরোজপুরের কাউখালি উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের বাড়ি থেকে নগরীর নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনীর শ্বশুর বাড়িতে আসে। ওইদিন রাত ৮টায় শাহ জালাল তার শিশু কন্যার দুধ কেনার জন্য বাসার পাশের একটি দোকানে যায়। এ সময় খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খানের নির্দেশে কৌশলে তাকে থানায় ডেকে নেয়া হয়। তার ফিরতে দেরি হওয়ায় খোঁজ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা থানায় গেলে ওসি তাকে ছাড়ানোর জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় তাকে জীবনে শেষ করে ফেলবে বলে হুমকি দেন।

কিন্তু দাবিকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে স্বজনরা থানার সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। এর মধ্যে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ কর্মকর্তারা শাহজালালকে পুলিশের গাড়ীতে করে বাইরে নিয়ে যায়। কিন্তু তাকে রাতে আর থানায় আনা হয়নি। দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা অপেক্ষার পর স্বজনরা বাসায় ফিরে যান।

পরদিন ১৯ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টায় তারা থানায় গিয়ে জানতে পারেন শাহজালাল নামে কেউ থানায় নেই। পরবর্তীতে খোঁজখবর নিয়ে তারা জানতে পারেন শাহজালাল খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।

সেখানে গিয়ে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ১০-১১নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় তাকে পড়ে থাকতে এবং দু’টি চোখ উপড়ানো অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় স্ত্রী ও শ্বাশুড়ীসহ অন্যান্য স্বাক্ষীরা বিষয়টি জানতে চাইলে শাহজালাল তাদের জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পুলিশ কর্মকর্তারা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গাড়ীতে করে গোয়ালখালি হয়ে বিশ্ব রোডের (খুলনা বাইপাস সড়ক) নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তার হাত-পা চেপে ধরে এবং মুখের মধ্যে গামছা ঢুকিয়ে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে দু’টি চোখ উপড়ে ফেলে। পরে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেখে আসে। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার দু’টি চোখই অন্ধ হয়ে গেছে। পরবর্তীতে আসামিরা শাহজালালের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করে গ্রেফতার দেখায়।

মামলায় বাদিপক্ষের আইনজীবী মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, আদালত বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য্য করেছেন।

এ ব্যাপারে খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খান বলেন, শুনেছি আদালতে একটি মামলা হয়েছে। শাহজালালের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা রয়েছে।

সেই মামলা থেকে বাঁচতেই পুলিশের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। শাহজালালের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে বলে তিনি জানান।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

আইন -এর সর্বশেষ

Hairtrade