Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৬ আশ্বিন ১৪২৫, শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬:২০ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

কনকর্ডের ১৮তলা ভবন দিতে হবে এতিমখানাকে


১২ মার্চ ২০১৮ সোমবার, ০৫:১১  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


কনকর্ডের ১৮তলা ভবন দিতে হবে এতিমখানাকে

ঢাকা : রাজধানীর আজিমপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত কনকর্ডের তৈরি ১৮ তলা ভবন ওই এতিমখানাকে বুঝিয়ে দিতে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ বেঞ্চ কনকর্ডের আনা ‘লিভ টু আপিল’ খারিজ করে আদেশ দেয়। হাইকোর্টের রায় বহাল থাকায় এখন দ্রুত ভবনটি এতিমখানাকে বুঝিয়ে দিতে হবে বলে জানায় আইনজীবীরা।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট মনজিল মোরসেদ। এতিম খানার পক্ষে ছিলেন এডভোকেট এ ওয়াই মশিউজ্জামান ও ব্যারিস্টার অনিক আর হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কনকর্ডের লিভ টু আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ায় যত দ্রুত সম্ভব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানাকে ওই ভবন বুঝিয়ে দিতে হবে।

২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে জারি করা এক রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজিমপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার জায়গায় আবাসন প্রতিষ্ঠান কনকর্ডের তৈরি ১৮ তলা বিল্ডিং এতিমখানাকে হস্তান্তরের আদেশ দেয় । একই সঙ্গে চার দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয় হাইকোর্ট।

সেগুলো হলো- ক. আজিমপুর এতিমখানার সম্পত্তি সংরক্ষণ করতে হবে, খ. এতিমখানার সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পর্কে ২০১৩ সালের ২২ জুলাইয়ের দলিল এবং ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিলের আমমোক্তার নামা দলিল বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ সেগুলো শুরু থেকেই বাতিল। গ. এতিমখানার জায়গায় কনকর্ডের তৈরি ১৮ তলা বিল্ডিং এতিমখানার পক্ষে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং ঘ. কনকর্ডকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে স্থাপনা ও সম্পত্তি এতিমখানাকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। ব্যর্থতায় সরকারকে সম্পত্তি বুঝিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় এবং এতিমখানার প্রয়োজনে ডেভলপ করার নির্দেশ দেয়া হয়। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন আবাসন প্রতিষ্ঠান কনকর্ড।

রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ১৯০৯ সালে ঢাকার নবাব ‘সলিমুল্লাহ এতিমখানা’ স্থাপন করেন এবং পরবর্তীতে সরকারের কাছ থেকে আজিমপুর সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন সময় জমি লীজ নিয়ে পরিচালনা করে আসছে। ২০০৩ সালের ২২ জুলাই এতিমখানার সভাপতি শামসুন্নাহার ও সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট জি এ খান আহসান উল্লাহ এতিমখানার ২ বিঘা জমি ডেভেলপার কোম্পানি কনকর্ডের কাছে হস্তান্তর করেন । এতিমখানার সম্পত্তি অবৈধ হস্তান্তর সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ পায়। পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তা সংযুক্ত করে চার জন ছাত্রের পক্ষে রিট পিটিশন দায়ের করেন মনজিল মোরসেদ।

পরবর্তীতে উক্ত রিট পিটিশনে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) পক্ষভুক্ত হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, এতিমখানার সম্পত্তি সরকারে নিকট থেকে লিজ নেয়া এবং লিজ চুক্তিতে এতিম খানার সম্প্রসারণের জন্য বিনামূল্যে দেয়া হয় এবং শর্ত ছিল প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ব্যতীত অন্য কোন কাজে জমি ব্যবহার করা যাবে না। তা সত্ত্বেও এতিমখানার সভাপতি ও সেক্রেটারী সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আর্থিক লাভবান হয়ে এতিমখানার সম্পত্তি কনকর্ড গ্রুপের নিকট হস্তান্তর করে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
ভাগ হয়নি ক' নজরুল
Bay Leaf Premium Tea

আইন -এর সর্বশেষ