Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৪ শ্রাবণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৯ জুলাই ২০১৮, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখর লাউয়াছড়া উদ্যান


১৮ জুন ২০১৮ সোমবার, ০৯:০৬  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখর লাউয়াছড়া উদ্যান

মৌলভীবাজার : ঈদুল ফিতরের ছুটিতে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের ঢল নেমেছে। মৌলভীবাজার, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, রাজনগর সহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা উপেক্ষা করেও পর্যটকদের উদ্যানে বিচরন করতে দেখা গেছে।

তবে মাধবকুন্ড, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত সহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীর তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি। লাউয়াছড়া মিশ্র চিরহরিৎ এই বনকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করায় বিশেষত ছুটির সময়ে অত্যধিক পরিমাণে পর্যটক, যানবাহনের হুড়োহুড়ি, গাছ চুরি, বনবিভাগের স্বল্প সংখ্যক লোকবল, শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক পানি, খাবার ও নিরাপদ বাসস্থান সংকট সব মিলিয়ে উদ্যানের জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি সুরক্ষা নিয়ে রীতিমত উৎকণ্ঠার বিষয় বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। উদ্যান ঘোষণার পর থেকে সেখানে পর্যটকদের ঢল নামছে। বনকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলতে রেস্টহাউস, নিসর্গ সহায়তা প্রকল্পের আওতায় লাউয়াছড়ায় কয়েকটি ইকো-কটেজ, বাঘমারা এলাকায় স্টুডেন্ট ডরমিটরি, ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে প্রকৃতি সহ-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃতি ব্যাখ্যা কেন্দ্র স্থাপনের ফলে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্যানের গাঁ ঘেষে বনজঙ্গল ও মাটি কেটে স্থাপিত হচ্ছে বিভিন্ন কর্টেজ। ফলে বনের ভেতরে দল বেঁধে মানুষের অবাধ বিচরন বন্যপ্রাণীর জন্য খাবার সংগ্রহ ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিভিন্ন কর্মকান্ডের ফলে বন্যপ্রাণীর খাবার ও আবাসস্থল বিনষ্ট হচ্ছে। যে কারণে খাবারের সন্ধানে জঙ্গলের দূর্লভ প্রাণীগুলো জনপদে ছুটে এসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের হাতে ধরা পড়ে অথবা গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে। এরপরও জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের ব্যাপক বিচরন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ঢাকা থেকে লাউয়াছড়া দেখতে আসা তাহমিদা আক্তার বলেন, সারা বছর কাজ নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। ঈদ কিংবা অন্য কোন ছুটি পেলে পরিবার পরিজন নিয়ে দুরে কোথাও ঘুরে যেতে ভালোই লাগে। গতবার গিয়েছিলাম কক্সবাজার, এবার সিলেট দেখতে বের হলাম। শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জের সব দর্শনীয় স্থান ঘুরে ঘুরে দেখছি।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন এ উদ্যানে আগত ১৫০০ পর্যটকের কাছ থেকে প্রবেশ ফি বাবাৎ রাজস্ব আয় হয়েছে ৬৩ হাজার টাকা। পরের দিন রোববার ২ সহ¯্রাধিক আগত পর্যটকের কাছ থেকে রাজস্ব আয় হয় ৯০ হাজার টাকা। তবে উদ্যানের বাইওে কার পাকিং-এর স্থান সংকুলান না হওয়ায় ফতিরিক্ত কারসহ মোটরযান রাস্তার ধারে রাখায় মাঝে মাঝে বড় যানজটের সৃষ্টি হয়।

ট্যুরিষ্ট পুলিশ মৌলভীবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম মোশাররফ হোসেন জানান, সারাবছরই পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য তারা কাজ করেন। ঈদের ছুটিতে প্রতিবছরই দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে ভীড় করেন। এজন্য ট্যুরিষ্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সৈয়দ মহসিন পারভেজসহ স্থানীয় পরিবেশবাদীদের মতে, সংরক্ষিত একটি বনে অধিক পরিমাণে পর্যটক বন্যপ্রাণির অবাধ চলাচল, খাবার ও আবাসস্থলে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হবে। এটি রোধ করা প্রয়োজন। বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় সহকারী বনকর্মকর্তা আনিসুর রহমান অত্যধিক পর্যটকের কারনে বন্যপ্রাণির বিড়ম্বনার কথা স্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত লোক আসলে নিয়ন্ত্রণে তাদের নিজস্ব লোকবল রয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে পর্যটকদের যেতে দেওয়া হবে না। তাছাড়া ঈদে তারা নিজেরাও তদারকি করেন। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিত ট্যুরিজমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
ভাগ হয়নি ক' নজরুল
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

বিমান ও পর্যটন -এর সর্বশেষ

Hairtrade