Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৪ পৌষ ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

ঈদের ছুটিতে খুলনা মহানগরী জুড়ে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা


১৪ জুন ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৯:৫৫  পিএম

শেখ প্রিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


ঈদের ছুটিতে খুলনা মহানগরী জুড়ে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা

খুলনা : প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঈদের ছুটির একদিন আগেই ফাঁকা হয়ে গেছে খুলনা মহানগরী। অধিকাংশ মানুষ প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে ছুটে গেছেন গ্রামে। খুলনা শহর থেকে প্রায় ৫ লাখ মানুষ গ্রামে গিয়েছেন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে।

বৃহস্পতিবার সরকারি-বেসরকারি অফিসের শেষ কর্মদিবস। অফিস থাকলেও অধিকাংশ চাকরিজীবীরা হাজিরা খাতায় সই করেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অনেকে আবার অফিস শেষ করে সোজা রওনা দেবেন বাস, লঞ্চ বা রেল স্টেশনের দিকে।ফলে নগরীর রেল স্টেশন, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চঘাটে দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

বদলে গেছে খুলনার পথ-ঘাট চিরচেনা দৃশ্য। নাড়ির টানে মানুষ গ্রামমুখী হওয়ায় ফাঁকা হতে শুরু করেছে কর্মব্যস্ত খুলনার পথ-ঘাট। প্রিয়জনের টানে বাড়ি ফেরা মানুষের স্রোত এখন রেল স্টেশন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালের দিকে। বৃহস্পতিবার অফিস-আদালত খোলা থাকলেও শুক্রবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু; তাই বৃহস্পতিবার সকালে হাজিরা খাতায় সই করেই দুপুরের মধ্যেই খুলনা ছাড়তে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ। তবে এ নিয়ে অফিস-আদালত অন্যান্য দিনের মত কঠোর ছিল না।

সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে সপরিবারে ঈদ করতে যশোরে রওয়ানা হচ্ছিলেন বেসরকারী কর্মকর্তা মাহমুদ সাজ্জাদ। তিনি বলেন, ‘কোনো গাড়িতেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বাসের ছাদেও লোক নেওয়া হচ্ছে। আশঙ্কায় আছি সুস্থ্যভাবে বাড়িতে পৌঁছানো নিয়ে।’ পাইকগাছায় যাচ্ছিলেন সরকারী কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন বাসে উঠতে গিয়ে শ্রমিকদের সাথে বাক বিতন্ডা হয়েছে। তারা ঈদ উপলক্ষে ভাড়া বেশি নিয়েছে। প্রতিবাদ করায় ঝামেলার সৃষ্টি হয়।

খুলনা রেলষ্টেশন, সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, রপূর্ব রুপসা বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, কোথাও কোথাও বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে নওয়াপাড়া, যশোর, কুষ্টিয়া, কয়রা, পাইকগাছা, ডুমুরিয়া, চুকনগর এলাকামুখী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার নামে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে তুলনামূলক ফাঁকা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। যে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য খুলনায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ছুটির সময়ে যাতে নগরীতে চুরি, ছিনতাই না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট তৎপর।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ শাখার সহকারী কমিশনার মো: আশরাফ হোসেন বলেন খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ জননিরাপত্ত্বায় ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কেএমপি এলাকায় ৮৪২ জন পোষাকধারী পুলিশ সদস্য এবং ২৮৪ জন সাদা পোষাকের পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি ৮টি থানা এলাকায় ৩০ এর অধিক ভ্রাম্যমান টিম ঈদ নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে।

কেএমপি পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় দায়িত্ব পালন করবে। অভিজাত আবাসিক এলাকা, বিনোদন স্পট ও ব্যস্ততম এলাকায় সাদা পোশাকেও নজরদারিতে থাকবে কেএমপি পুলিশ।এছাড়া র‌্যাবের পক্ষ থেকেও জেলা ও মহানগরীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।