Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
১০ আষাঢ় ১৪২৫, রবিবার ২৪ জুন ২০১৮, ৯:২৪ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

আশুলিয়ায় মাদক ও যৌন বাবসায়ী চক্রকে উৎখাত : জনমনে স্বস্তি 


২৭ মে ২০১৮ রবিবার, ০৭:৪৬  পিএম

তুহিন আহামেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


আশুলিয়ায় মাদক ও যৌন বাবসায়ী চক্রকে উৎখাত : জনমনে স্বস্তি 

সাভার : মাদক। মাদকের মায়াজালে তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা প্রতিনিয়ত হচ্ছে গ্রাস। আর মাদক ব্যবসায়ীদের মূল টার্গেট হয় তরুণ ও যুবক শ্রেণী। 

তবে বর্তমান সময়ে দেশব্যাপী মাদক নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিকে বুকে ধারণ করে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করছে এক সময়ে মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে চুপ করে থাকা অসহায় এলাকাবাসী। সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর প্রবল ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠছে মাদকের বিরুদ্ধে।

রাজধানীর অতি নিকটে শিল্পাঞ্চল বেষ্টিত আশুলিয়া। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাকে মোকাবেলা করে আর নানান সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে দেশের উন্নয়নে বিস্তর ভূমিকা পালন করছে আশুলিয়া। লাখো মানুষের বসবাসের ঠিকানা আশুলিয়ায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে মাদকের মত ভয়ঙ্কর ব্যবসার আখড়া। গড়ে উঠেছে জঘন্যতম যৌন ব্যবসার অভয়ারণ্য।

ঠিক এমন একটি জায়গার নাম গেরুয়া বাজার। দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) খুব কাছের একটি গ্রাম। উল্ল্যেখ যোগ্য এলাকাটিতে গত কয়েকমাস আগেও ছিল মাদক ও দেহ ব্যবসায়ীদের আখড়া। ছিল শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট। আর মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যবসা কার্য নির্ভেজাল ভাবে পরিচালনা করতে ব্যবহার করা হতো স্থানীয় মোকামটেক নামক এলাকা।

সন্ধ্যা নামতে না নামতেই গাঁজা ও ইয়াবার গন্ধে সরব হয়ে উঠতো জায়গাটি। অপরিচিত লোকদের আনাগোনা বেড়ে যেত বহুগুনে। আর এমন স্থান দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও এলাকাবাসীকে প্রায় পড়তে হতো ছিনতাইকারীদের কবলে। জীবন হারানোর ভয়ে বাধ্য হয়েই ছিনতাইকারীদের নিরবে সব দিয়ে দিতে হতো। আর বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের দিকে ঝুঁকে এলাকার যুবকেরা হয়ে উঠে প্রফেশনাল মাদকসেবী। জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। আর রাতে যৌন ব্যবসার রমরমা আসর বসতো মোকামটেক এলাকায়।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে এবং বিভিন্ন অনুসন্ধানে জানা যায়, মোকামটেক এলাকায় মাদক চক্রটির মূল হোতা শাজাহান (৬০)। বাড়ি সাভর। বর্তমান ঠিকানা রাজধানীর উত্তরা। সে মোকামটেক এলাকায় নারী ও মাদকের আর্থিক জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগ রয়েছে, আশুলিয়ার গেরুয়া বাজারের মোকামটেক এলাকায় অন্যের পতিত জমিতে বেশ কয়েকটি টিনশেড ঘর উঠিয়ে বিগত কয়েকমাস যাবৎ প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির অভায়রণ্যে পরিণত করেছিল। আর এ চক্রের অন্যতম সদস্য ইদ্রিস আলি ওরফে দরদী ইদ্রিস।

সে আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে গাঁজা এবং ইয়াবা সরবরাহ করতো। এলাকাবাসির মতে, মাদক ব্যবসার এ চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে আনোয়ার, আব্বাস, মোহাম্মদ আলি, কামালসহ আরো অনেকে। আর এরাই মোকামটেক এলাকা থেকে মাদক বহন ও নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেয়া এবং বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক আনা-নেয়ার কাজ করতো বলে জানা যায়।

আর মোকামটেক এলাকায় মাদকের আখড়া’র তান্ডব দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী বিষয়টি পতিত জমির মালিককে অবহিত করে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাদক ও দেহ ব্যবসায়ী চক্রটি যাতে ঐ স্থানটি ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য ওই জমিতে সীমানা প্রাচীর যাতে নির্মাণ করা হয়।

এরই প্রেক্ষিতে জমির মালিক স্থানীয় এলাকাবাসির সহযোগিতায় ঐ জমিতে সীমানা প্রাচীর দিতে গেলে সরকারী কর্মকর্তাসহ স্থানীয়দের শিকার হতে হয় লাঞ্ছনার। এক পর্যায়ে ঐ জমি নিজেদের দখলে নেয়ারও পায়তারা চালায় চক্রটি। শেষে স্থানীয়দের কঠোর প্রতিবাদে চক্রের সদস্যরা যে যার মত সটকে পরে।

গেরুয়া বাজার এলাকার কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি ও ব্যবসায়ী জনাব নজরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন আগেও মোকামটেক এলাকায় রাস্তায় রাতে চলাচল করতে ভয় লাগতো। মাদকসেবী বা ছিনতাইকারীদের ভয়ে থাকতে হতো সবসময়। তবে এখন সেই ভয়টা আর কাজ করে না।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমরা সকলে এক হয়ে এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় এই ভয়ঙ্করর চক্রটিকে উৎখাত করতে সক্ষম হয়েছি। এখন ঐ চক্রটি বিভিন্ন ভাবে আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ প্রাণনাশেরও হুমকি দিচ্ছে। এজন্য আমরা গনমাধ্যমকর্মীদের ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
ভাগ হয়নি ক' নজরুল
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

বিশেষ প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ

Hairtrade