Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

আরডিএ ও ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় : উত্তরাঞ্চলের গর্বের নিদর্শন


২২ অক্টোবর ২০১৭ রবিবার, ০৩:২০  এএম

ড. মো. হুমায়ুন কবীর

বহুমাত্রিক.কম


আরডিএ ও ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় : উত্তরাঞ্চলের গর্বের নিদর্শন
ছবি : লেখক

এক.

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরিতে যোগদানের পরে আর কখনো ঢাকার বাইরে প্রশিক্ষণের সুযোগ হয়ে উঠেনি। একেবারেই অফিসের ছকবাধা কিছু মিটিং ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের জন্য কখনো সখনো ইউজিসিতে ডেকে থাকেন। কখনোবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অথবা পরিকল্পনা কমিশনে। কিন্তু এবারে ২০১৭ সালের ৬-৭ অক্টোবরে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকার বাইরে। অন্যরকম এ অনুষ্ঠানটিতে ডাকা হয় দেশের ২৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং তাদের সাথে সংযুক্ত ফোকাল পয়েন্টবৃন্দকে।

অনুষ্ঠানটি ছিল বর্তমান সরকারের জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের অংশ হিসেবে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বিষয়ে দুইদিনের একটি ওয়ার্কশপ। গুরুত্বপূর্ণ এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় উত্তরবঙ্গের বগুড়ায় অবস্থিত একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) তে। দুইধাপে আয়োজিত অপর অংশটি পরে কুমিল্লার একই ধরনের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমন একটি অনুষ্ঠান ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজন করেছেন বলেই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে সেটাকে সাফল্যম-িত করেছেন।

একটি উপলক্ষে আরডিএতে যেতে না পারলে হয়তো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অদেখা থেকে যেতো। সেখানকার পরিবেশ, আতিথেয়তা, আপ্যায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সকলের মনকে এমনভাবে আকৃষ্ট করে রেখেছে যে এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম ব্যক্তিবর্গও অবিরাম সেশনের পর সেশনে নির্দ্বিধায় মনোযোগ দিয়েছেন। আরডিএ প্রতিষ্ঠানটি খুবই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। সেটি একটি গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণধর্মী প্রতিষ্ঠান।

দুই.

জানা গেছে ১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্তরাঞ্চলের সহজ সরল মানুষের উন্নয়নের জন্য এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি এ দীর্ঘ সময়ে উত্তরাঞ্চল তথা বাংলাদেশের মানুষের জন্য সহজভাবে সেচ সুবিধা, পরিবেশসম্মত জৈবিক কৃষি পণ্য উৎপাদন, শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি, মানুষসহ সকল বর্জ্যরে বায়োগ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রান্নার কাজ চালানো, রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার প্রস্তুত করা ইত্যাদি কার্যক্রম গবেষণার মাধ্যমে বের করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সেখানে প্রথমদিন কর্মশালার পরে একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজনও ছিল। প্রশিক্ষণের শেষের দিন দুপুরের খাবারের পর বগুড়া অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুন্ড্র নগরী মহাস্থানগড়ে একটি পরিদর্শনসূচি ছিল।

রাতে ডরমিটরিতে অবস্থানের সময় নিকটবর্তী শেরপুর উপজেলায় আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক সহকর্মী বিজয় কুমার কর্মকার তখন বাসায় থাকায় মোবাইল ফোনে আমাদের আগমনের কথা শুনে খুশি হয়ে দাওয়াত করলেন যেন তাদের ওখানে এককাপ চা খাই। যেহেতু প্রতিক্ষণের পরে রাতে আর তেমন কোন কাজ থাকে না সেজন্য তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করলাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য, আমি এবং ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে আগত অডিটের উপপরিচালক রাধেশ্যামকে নিয়ে বেড়াতে গেলাম। সেখানে গিয়ে আরেক কাজ এগিয়ে রাখার প্রয়াস পেলাম। কারণ বগুড়া গেলে সেখানকার দই এবং মিষ্টি নিয়ে যাওয়ার একটি আবেদন থাকে সবার মধ্যে। কিন্তু সেখানে কোন দোকানের দই-মিষ্টি ভালো তা বিজয় বাবুর কাছ থেকে জেনে নেওয়া গেল যাতে ফেরার দিন তা সহজেই কিনে নিয়ে নেওয়া যায়। সেখান থেকে ফিরে রাতে খাবারের আগে আয়োজিত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় যোগ দিলাম।

সেখানে আশ্চর্যজনকভাবে দুটি গান পরিবেশন করলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান। ভালেই লাগল অনুষ্ঠানটি। ডরমিটরি থেকে ট্রেনিং ভেন্যু এবং খাবারের ক্যাফেটেরিয়াতে যাওয়া আসার পথে প্রতিমুহূর্তেই আরডিএর সৌন্দর্য চোখে পড়েছে। আর বারবারই দেখেছি সবাই ছবি তুলছে, আমিও বাদ যাইনি।

তিন.

পরদিন মানে শেষদিন অর্থাৎ ৭ তারিখে ফেরার পালা। পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দুপুরের খাবারের পর একেবারে বের হয়ে প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে মহাস্থানগড় দেখতে যাচ্ছি। আরডিএ থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মতো। আরডিএ ক্যাম্পাসটি বগুড়া জেলা শহর থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে। বগুড়া এলাকাটি একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানে আলুসহ সবধরনের শাকসবজি ফসল খুবই ভালোভাবে ফলে থাকে। রাস্তায় বেরোনোর পর চারিদিকে সবুজ আর সবুজ দেখে মন ভরে যায়। রাস্তায় যেতে যেতে ক্যান্টনমেন্ট, মেডিক্যাল কলেজ, পুন্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক কিছু চোখে পড়ল।

অনেক আলু হওয়ার কারণে অনেক কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে সেখানে। রাতে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় বগুড়া অঞ্চলের একজন উন্নয়ন কর্মী অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগমের সাথে দেখা হল। তিনি নারী উন্নয়নের জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠিত ঠ্যাঙ্গামারা মহিলা সামাজিক সংস্থা (টিএমএসএস) এর মাধ্যমে সারাদেশে কাজ করে থাকেন। তিনি বগুড়ায় ফাইভস্টার হোটেল, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। যাহোক, আমরা মহাস্থানগড়ে গিয়ে সেখানকার পৌরাণিক কিছু দর্শনীয় স্থান দেখে সেখানে ছবি তুললাম। সেখানে পুরাতনকালের স্থাপনা দেখে মুগ্ধ হলাম।

 

এগুলো দেখার সময় একটি জিনিস সব সময় বিষ্মিত করে যে, এতোকাল পরেও এগুলো এমন অক্ষত থাকে কি করে! অথচ আধুনিক সকল নির্মাণ শৈলী ব্যবহার করেও পদ্মা সেতুর স্থায়ীত্বকাল হবে মাত্র ১২০ বছর। পরে সেখান থেকে কয়েক গজ দূরে জাদুঘরে গিয়ে সেসময়কার কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখে ফিরে আসার সময় শুনলাম বেহুলা-লক্ষিন্ধরের সেই বাসরঘর নাকি সেখানে অবস্থিত। কিন্তু ততক্ষণে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায়, ফিরতে হবে এবং অনেক দূরের রাস্তা সেজন্য আর তা নেমে দেখা হল না।

তবে যাহোক, এটি ছিল একদিকে রথ দেখা অপরদিকে কলাবেচা। কারণ দাপ্তরিক কাজে সেখানে গিয়ে একটি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন এবং আরডিএর মতো একটি প্রতিষ্ঠান দেখে আমাদের গর্ববোধ হয় যে দেশের জন্য কতদিকে কতজনই না কত কিছু করছে। আমরা কী সবাই এগুলোর খবরাখবর রাখি! তবে রাখা উচিত। সুযোগ পেলেই ঘুরে আসুন এসব স্থানে। অনেক নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হবে।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

email: [email protected] 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

ভ্রমণ -এর সর্বশেষ

Hairtrade