Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৩ পৌষ ১৪২৫, সোমবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

আদর্শলিপির শিক্ষা কি শিশুটির ভাগ্যে জুটবে?


২৬ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০১:৫৬  এএম

তুহিন আহামেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


আদর্শলিপির শিক্ষা কি শিশুটির ভাগ্যে জুটবে?
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

সাভার : যে বয়সে মায়ের কোলে বসে দুগ্ধপান করার কথা, যে বয়সে বাবা-মায়ের সাথে হেসে খেলে বেড়ে উঠার কথা, যে বয়সে আত্মীয়-স্বজন, বড় ভাই-বোনদের সাথে খেলাধূলা করে বড় হয়ে উঠার কথা সে বয়সে বাবা-মায়ের অতি লোভের কারণে ভিক্ষার থালা হাতে ধরিয়ে দিয়ে ভিক্ষা করানো হচ্ছে শিশুটিকে দিয়ে।

কি তার নাম, কি তার বাবা-মায়ের নাম সেটিও ঠিক করে বলতে পারেনা শিশুটি। বয়স আড়াই কি তিন হবে। অথচ ভিক্ষা বৃত্তির মত নিকৃষ্টতম কাজ করিয়ে টাকা কামাচ্ছে শিশুটির মা-বাবা। আদর্শ লিপির শিক্ষা কি তার ভাগ্যে জুটবে ? নাকি এমনি করেই জীবন চলে যাবে। এর ভবিষ্যৎ কোথায়......?

গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টা কি ১০ টা হবে। এমন সময় আশুলিয়ার জিরানী বাজার ওভার ব্রীজ দিয়ে রাস্তা পার হতে যাচ্ছিলাম নিজেই। এমন সময় চোখে পড়ে ওই শিশুটিকে। হাতে একটি ফিডার নিয়ে সে দুধ পান করছিল। আর এদিক-সেদিক ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে তাকাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল কত দিন যেন মেয়েটির চোখ থেকে ঘুম কাটেনি। ঘুম যেন তার সারাজীবনের সঙ্গী হয়ে গেছে।

একের পর এক লোকজন ওভারব্রিজ দিয়ে এপার থেকে ওপার যাচ্ছিল। কারো চোখে পড়ে আবার হয়তো কারো চোখে পড়ে না। কেউ হয়ত ২টাকা আবার কেউ ৫ টাকা দিয়ে থাকে শিশুটির সামনে রাখা একটি প্লাষ্টিকের বল বা বাটিতে (পাত্রে)।

এখানে চলাচলরত বিভিন্ন রোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৭টা আবার কোন কোন দিন সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটির মা এখানে রেখে যায় তাকে। অনেকই মন্তব্য করে বসলেন মেয়েটিকে তার মা ফিডারে দুধের সাথে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে থাকেন। পরে সে ফিডারের দুধ খেয়ে মেয়েটি সারাদিন এখানে ঘুমিয়ে পড়ে থাকে।

কেউ কেউ আবার বললেন, কখনো ওভার ব্রীজের উপর, আবার কখনো বা ওভার ব্রীজের নিচে আবার রাস্তার এক পাশে মেয়েটি সারাক্ষণ ঘুমিয়ে থাকে। অবশ্য সামনে একটি প্লাষ্টিকের বল/বাটি বা পাত্র থাকে। যেখানে রাস্তা দিয়ে চলাচল রত মানুষজন ২/৫ টাকা রেখে দেন। রাতের আবার এক মহিলা এসে তাকে নিয়ে যান। অনেকের ধারণা মহিলাটি তার মা।

বিকেএসপি পাবলিক স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানালো, প্রতিদিন এই মেয়েটিকে এখানে শুইয়ে রেখে ভিক্ষা করানো হয়। মাঝে মাঝে আমরাও দুই/এক টাকা দিয়ে থাকি। এখানে শুধু একটি শিশুকে শুইয়ে রাখাই হয়না। এ ওভার ব্রিজের আশ-পাশে এধরণের আরো ৪/৫জন শিশু রয়েছে। যারা প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিক্ষা করে থাকে। কাউকে দেখলেই তারা পা জড়িয়ে ধরে রাখে এবং টাকা না দেওয়া পর্যন্ত পা ছাড়ে না। টাকা দিলেই পা ছেড়ে দেয়। অনেকে আবার তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিলøও করে।

জিরানী বাজার জমিদার মার্কেট এর পীচ লাইট কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ নূরুল ইসলাম জানান, যে বয়সে শিশুরা বাড়িতে থেকে মা-বাবা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে থেকে হেসে খেলে বড় হওয়ার কথা। সে বয়সে সামান্য কিছু টাকার লোভে শিশুটির মা এখানে তাকে রেখে যায়।

তবে আশ্চর্য্যরে বিষয় শিশুটি দিনের অধিকাংশ সময় ঘুমিয়ে থাকে। হঠাৎ কেউ দেখলে মনে করবে শিশুটি মরে গেছে। সামান্য কয়েকটি টাকার জন্য নিষ্পাপ এ শিশুটিকে দিয়ে ভিক্ষা করানো হয়। অথচ সামনে তার সারা জীবন পরে রয়েছে। মা-বাবাকে একটু সচেতন হতে হবে বলেও জানান তিনি। সেই সাথে জনগণকেও সচেতন হতে হবে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
ভাগ হয়নি ক' নজরুল
Bay Leaf Premium Tea

শিশুর রাজ্য -এর সর্বশেষ