Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

‘আজাদ হিন্দ দিবস’ : স্বীকৃতি না পাওয়ার ক্ষোভ এখনও


২১ অক্টোবর ২০১৭ শনিবার, ০৫:০৬  এএম

বিশেষ প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


‘আজাদ হিন্দ দিবস’ : স্বীকৃতি না পাওয়ার ক্ষোভ এখনও
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা : শনিবার, ২১ অক্টোবর ঐতিহাসিক ‘আজাদহিন্দ বা আইএনএ দিবস’। ১৯৪৩ সালের এই দিনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক রাজের শাসন-শোষণের শৃঙ্খল থেকে মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নেতা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু গঠন করেছিলেন ‘আর্জি-হুকুমত-ই-আজাদ হিন্দ সরকার’। 

ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরে গঠন হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন এ সরকারকে অক্ষশক্তির ৯টি দেশ স্বীকৃতি জানায়। এ সরকারের সৈন্যবাহিনী ‘আজাদহিন্দ ফৌজ’ জাপানের সহযোগিতায় এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ভারতের ভূ-খণ্ডের বেশকিছু অঞ্চল নিজেদের অধিকারে নিতে সক্ষম হয়। এ সরকারের নিজস্ব মুদ্রা, বিচার ব্যবস্থা ও দণ্ডবিধি ছিল। 

বিপ্লবী এ সরকার ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে যে গভীর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল তা ইতিহাসে আজও শ্রদ্ধার আসনে অলঙ্কৃত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজ কিংবা আজাদ হিন্দ সরকার টিকে থাকতে না পারলেও এর প্রভাবেই অচিরেই ব্রিটিশের শৃঙ্খলমুক্ত হয় ভারত। 

ব্রিটিশ শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আজাদ হিন্দ ফৌজের অন্তত ২৬ হাজার সৈন্যের অকাতর বলিদান দেশবাসীর হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটে। এতে স্বাধীনতার জন্য ভারতবর্ষ ক্রমেই আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে।অগ্নি স্ফূলিঙ্গের মত মুক্তির সংগ্রাম ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।

অবস্থা বেগতিক দেখে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসক-শোষকরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা করে দেশ ছাড়লেও তৎকালীন ব্রিটিশ অনুগত রাজনীতিকদের কাছ থেকে যথার্থ স্বীকৃতি পায়নি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী সূর্য সন্তানরা। 

ব্রিটিশ শাসনমুক্ত হওয়ার ৭ যুগ পরেও এ অবস্থার তেমন পরিবর্তন ঘটেনি। সাধারণ জনগণ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদহিন্দ ফৌজের সেনানিদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলেও সরকারিভাবে ইতিহাসের স্মরণীয় সেইসব দিনগুলো একেবারে গুরুত্বহীন। 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য বছরগুলোর মত এবারও পালিত হবে আজাদহিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার ৭৪তম তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিনটিকে স্মরণ করে কলকাতার নেতাজিপ্রেমীরা শহরের রেড রোডের আইএনএ মোমোরিয়াল চত্বরে সমবেত হবেন। এদিন সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে নেতাজি ও আইএনএ’র বীরদের। 

নেতাজি গবেষক ও পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট সাংবাদিক ড. জয়ন্ত চৌধুরী আজাদ হিন্দ সরকারের প্রতিষ্ঠা দিবসের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বহুমাত্রিক.কম-কে বলেন, ‘২১ অক্টোবর আজাদ হিন্দ সরকারের প্রতিষ্ঠা দিবসের ইতিহাস ব্যতিরেকে ভারতের ইতিহাস রচিত হতে পারে না। আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, আজাদ হিন্দ সরকারই হচ্ছে ভারতের প্রথম স্বাধীন সরকার। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুই হচ্ছে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ভারত সফরে কলকাতায় এসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্রিমেন্ট এটলি দ্ব্যর্থহীনভাবে একথা স্বীকার করেছিলেন, তা হচ্ছে-গান্ধীর ভারত ছাড়ো আন্দোলন ১৯৪২-এ শেষ হয়ে গিয়েছিল। নেতাজির বৈপ্লবিক অভিঘাতেই ব্রিটিশদের ভারত ছাড়তে হয়েছিল।’

এই ইতিহাস-এই গৌরবগাঁথা নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার আকাঙ্খার কথা জানিয়ে বিশিষ্ট এই গবেষক বলেন, ‘নেতাজির জাতপাতহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য ছিল তা বাস্তবায়ন করতেই হবে। একই সঙ্গে আমরা দাবি জানাব-নেতাজি ও আইনএনএ-কে জানার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা না সৃষ্টি করার’

তিনি বলেন, ‘আজাদহিন্দ সরকার অবলুপ্ত করার পূর্বে নেতাজি আমাদের জন্য একটি টাকাও দেনা রেখে যাননি। আজাদহিন্দ সরকারের কোষাগারের যে বিপুল অর্থ-অলঙ্কার ছিল, সেসবের তদন্ত হওয়া দরকার-পরবর্তী সরকারগুলো এবিষয়ে কী ভূমিকা রেখেছিল সেটাই আজ বড় প্রশ্ন। নেতাজি আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নাম ‘শহীদ ও স্বরাজ’ রেখেছিলেন। সেই নামটি পুনর্বহাল করার দাবি জানাচ্ছি। দাবি জানাচ্ছি-ভারতের প্রথম স্বাধীন সরকারের সেনাবাহিনী ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি-আইএনএ’র নামানুসারে ভারতীয় বর্তমান সেনাবাহিনীর নাম ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি রাখার।’

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

বিশেষ প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ

Hairtrade