Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

অর্জনের গৌরবে যুগপূর্তি উদযাপনে ‘জাককানইবি’


০৭ জুলাই ২০১৮ শনিবার, ০৯:২৪  এএম

ড. মো. হুমায়ুন কবীর

বহুমাত্রিক.কম


অর্জনের গৌরবে যুগপূর্তি উদযাপনে ‘জাককানইবি’
ছবি : লেখক

দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) প্রতিষ্ঠার ১২টি বছর। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ২০০৬ সালের ৯ মে তারিখে পাশ হওয়া ১৮ নং আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবির নামে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি।

প্রতিষ্ঠার পরের বছর অর্থাৎ ২০০৭ সালের ৩ জুন তারিখে ক্লাস শুরুর মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিভিন্ন সময়ে শত প্রতিকূলতার মাঝেও হাঁটি হাঁটি পা পা করে সকল দিক দিয়ে এগিয়ে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বৈশ্বিক এবং সার্বজনীন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ১২ বছর খুবই কম সময়। উদ্বোধনের সময় মাত্র চারটি বিভাগ নিয়ে শুরু। তারপরেও এ স্বল্প সময়ের মধ্যে এখন মোট একাডেমিক বিভাগের সংখ্যা ১৯টি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমান প্রশাসনের ডাইনামিক লিডারশিপে দ্রুতই এগিয়ে চলেছে। আগামী সেসন (২০১৮-২০১৯) থেকে বর্তমানে থাকা ১৯টি বিভাগের সাথে আরো যুগোপযোগী ৮টি বিভাগ যুক্ত হওয়ার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এই ৮টি বিভাগ যুক্ত হলে মোট বিভাগের সংখ্যা হবে ২৭টি।

৭ জুলাই ২০১৮ তারিখে পালিত হতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির যুগপূর্তি অনুষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বর্ষপূর্তি পালিত হলেও এবারে যুগপূর্তি অনুষ্ঠানটি একটু বর্ণাঢ্যভাবে পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখানে মূলত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরাম’ নামের যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনটির অগ্রণি ভূমিকা ছিল তারাও এটি পালন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে চলেছে।

এ অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমণ্ডিত করার অংশ হিসেবে এদিনে সেখানে সমাবেশ ঘটছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অনেক উল্লেখযোগ্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের। রয়েছেন সরকারের সিনিয়র সচিব এবং সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানকে আনন্দময় ও গৌরবান্বিত করার জন্য প্রধান অতিথি হিসেবে রয়েছেন বৃহত্তর ময়মনসিংহের কৃতিসন্তান এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত সংগঠন ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের’ সভাপতি ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রবক্তা সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। গেস্ট অফ অনার হিসেবে রয়েছেন বিশিষ্ট নজরুল বিশেষজ্ঞ সদ্য নিযোজিত জাতীয় অধ্যাপক ইমেরিটাস প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য বর্ণাঢ্য এ কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আসন অলংকৃত করছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুস সামাদ, দুদকের সচিব ড. শামসুল আরেফিন।

থাকছেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহমুদ সাজ্জাদ, ম. হামিদ, আন্তর্জাতিক নজরুল চর্চা কেন্দ্রের এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের মহাসচিব রাশেদুল হাসান শেলী, থাকছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ট্রেজারার প্রফেসর মো. জালাল উদ্দিন, ডিনগণ, বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা পরিষদ, সাংবাদিক, ত্রিশালসহ এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারীগণ। ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সকল পর্যায়ের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সভাপতিত্বে এবং রেজিস্ট্রার হিসেবে আমি সকলের সাথে সমন্বয় করে অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমণ্ডিত করার চেষ্টা করছি।

একদিনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বৃহত্তর ময়মনসিংহে এতসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে যুগপূর্তি অনুষ্ঠানটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়ে গৌরবান্বিত করেছে। বর্ষপূর্তি হয়তো প্রতি বছরেই অনুষ্ঠিত হবে কিন্তু যুগপূর্তি বারবার আসবেনা। তাই এবারের যুগপূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। সকালে লাইভ জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। তারপর একে একে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে শুভ সূচনা, আনন্দ র‌্যালি, দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা সভা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাংস্কৃতিক ফোরামের যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতায় গান, নাচ ও নাটকসহ শিরোনামহীন ব্যান্ডের গান দিয়ে ক্যাম্পাস তারুণ্যোদীপ্তভাবে মাতিয়ে উঠছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর একযুগ পেরিয়ে গেছে। এটি কারো একক নেতৃত্বে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়নি ঠিক তেমনি যারা একেবারে ন্যূনতম হলেও সহযোগিতা দিয়েছেন তাদের কাউকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এটি ছিল একটি সম্মিলিত প্রয়াস। আজকের এই দিনে ত্রিশালের রাজনীতিক, সাংবাদিক, সাধারণ মানুষসহ এতদাঞ্চলের যারাই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে তাদের সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা শিক্ষা বিস্তারে এবং জাতীয় কবির স্মৃতি সংরক্ষণার্থে যে ভূমিকা পালন করেছেন; তা না হলে সকলের কল্যাণের জন্য এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোল সম্ভব হতো না। সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

email: [email protected]

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।