Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

অবশেষে বিমানবন্দর হচ্ছে খুলনায়


০৬ মে ২০১৫ বুধবার, ১২:৩৩  পিএম

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


অবশেষে বিমানবন্দর হচ্ছে খুলনায়
খান জাহান আলী বিমানবন্দরের জন্য নির্ধারিত স্থান/ছবি-বহুমাত্রিক.কম

খুলনা: উদ্যোগ নেওয়ার ৫৪ বছর পর খুলনায় বিমান বন্দর নির্মিত হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে  ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

খান জাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ প্রকল্প নামের এই বিমান বন্দর নির্মাণ কাজ আগামী ২০১৮ সালের জুন মাস নাগাদ শেষ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপ।

 ১৯৬১ সালে খুলনায় প্রথমবারের মত বিমান বন্দর তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্যে খুলনার ফুলতলা থানাধীন মশিয়ালিতে জমি অধিগ্রহণও করা হয়। দ্বিতীয় দফায় একই উপজেলার তেলিগাতি; পরে  বাগেরহাটের কাটাখালিতে বিমান বন্দরের কথা বলা হয়।

চতুর্থ দফায় ১৯৯৮ সালে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লায় খুলনা-মংলা মহাসড়কের পূর্ব পাশে জায়গা নির্ধারণ করা হয় এবং জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর নামকরণ করা হয় খানজাহান আলী বিমানবন্দর।
বিমান বন্দর হলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরিত হবে। সেই সাথে মংলা বন্দর ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে দ্রুত যোগায়োগ করা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবিত বিমান বন্দরটি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লা নামক স্থানে খুলনা-মংলা সড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত। এখানে মাটি ভরাটের কাজ অনেক আগে হলেও জায়গাটি উন্মুক্তভাবে পড়েছিল।

জানা যায়, ১৯৯৪-৯৫ অর্থ বছরে বিমানবন্দরের জন্য খুলনা-মংলা মহাসড়কের পাশে ওই এলাকার ৯৩ দশমিক ৫৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। একই বছরের জুন মাসে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপরে কাছে বিমানবন্দরের জমি হস্তান্তর করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার মতায় এসে ১৯৯৮ সালের জুন মাসে প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে। এতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩২ কোটি টাকা।

বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকার মতায় আসার পর বিমানবন্দর নির্মাণের পূর্ব পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনে। সিদ্ধান্ত হয়, স্টল বিমানবন্দর নির্মাণের পরিবর্তে মাঝারি ধরনের বিমান ওঠানামার উপযোগী বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। এজন্য আগের অধিগ্রহণ করা জমির পাশে জনবসতি এলাকার আরো ৭১ দশমিক ৮২ একর জমি অধিগ্রহণের কথা বলা হয়; তবে জমি আর অধিগ্রহণ করা হয়নি।

২০১২ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান খুলনা-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ রুটে ছোট বিমান ওঠা নামার জন্য বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগের কথা জানান। ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে বিমানবন্দর নির্মাণে প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্যে কাজ শুরু করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)।

সাত মাস পর ওই বছরের ২৬ নভেম্বর  বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপরে কাছে কুয়েট তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে দুই ভাগে বিমানবন্দর নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। প্রথম ভাগে ছোট বিমান ওঠানামার জন্য স্টল এবং দ্বিতীয়ভাগে পূর্ণাঙ্গ বিমান বন্দর করার জন্য প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে রূপান্তরের জন্য জমি লাগবে আরও ৮০ একর। সময় লাগবে ২০২২ সাল পর্যন্ত।

Khan_jahan_Air-portবর্তমানে প্রস্তাবিত এলাকার জমি দখল করে ধান ও মাছের চাষ করছে প্রভাবশালী মহল। সেখানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কয়েকটি  ট্রাক ও রোলার মেশিন আছে, যা রণাবেণের অভাবে মাটির সঙ্গে মিশে  যাচ্ছে। ফলে ল ল টাকার সম্পদ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বিমানবন্দরের জায়গা ব্যবহার করছে সুবিধা ভোগীরা।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান এ প্রসঙ্গে বহুমাত্রিক.কম-কে বলেন, খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হওয়া হওয়া খুবই আনন্দের ব্যাপার। বহুদিন ধরে খুলনা তথা এই অঞ্চলের মানুষ বিমান বন্দর বাস্তবায়নের কথা বলে আসছিল। অবশেষে এটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিমান বন্দরের ফলে দ্রুত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে; যাতে সুন্দরবনের পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে; কাঁচাপাট রপ্তানি ও মংলা বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও গতি পাবে। বিমানবন্দর না থাকার কারণে বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতা ও খেলোয়াড়দের  খুলনায় আসার েেত্র নেতিবাচক মনোভাবটি পাল্টে  ইতিবাচক হবে।  

খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী আমিনুল হক খানজাহান আলী বিমান বন্দরের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা  শেখ হাসিনার সরকার দণি-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। আগেরবার আওয়ামী লীগের সরকার প্রস্তাবিত বিমান বন্দর এলাকার মাটি ভরাটের কাজ করেছিল; কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার সেই কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়নি, কাজটি বন্ধ করে দিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিমান বন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যে আগে থেকেই চেষ্টা করে আসছিল; আজ (মঙ্গলবার) তা চূড়ান্ত অনুমোদিত হল। এই সরকারের মেয়াদকালের মধ্যেই এখানে বিমান উঠানামা করবে।’

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

বিমান ও পর্যটন -এর সর্বশেষ

Hairtrade