Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৩০ আশ্বিন ১৪২৫, সোমবার ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

অনবদ্য ভ্রমণালেখ্য ‘ভ্রমণ দেশ-বিদেশ’


০৩ মার্চ ২০১৮ শনিবার, ০১:৪৭  এএম

আল্ জাবির

বহুমাত্রিক.কম


অনবদ্য ভ্রমণালেখ্য ‘ভ্রমণ দেশ-বিদেশ’

‘ভ্রমণ দেশ বিদেশ’ একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ কাহিনীভিত্তিক গ্রন্থ। বিদেশের মধ্যে ভারত ও ফিলিপাইনের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানসমূহে ভ্রমণে লেখকের নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে। অপরদিকে দেশের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত কিছু স্থানে লেখকের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।

যেকোন ভ্রমণই আনন্দদায়ক। আমরা কর্মজীবী মানুষেরা সারাক্ষণ নিজের কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকি। কখনো কোথাও বেড়ানোর সুযোগ সহজে হয়ে উঠতে দেখা যায় না। অনেকের আবার কর্মের খাতিরেও দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়ে যায়। আর সেরকম ভ্রমণের সুযোগ হলে তাঁদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক গ্রন্থ এটি। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা এবং আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি), তার সাথে সেখানকার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, পাতাইয়া পর্যটন কেন্দ্র, সাগর তীর, পাহাড় পরিবেষ্টিত নয়নাবিরাম ফিলিপাইন সরকারের অবকাশকালীন রাজধানী বাজিও সিটি, যা অনেকটা আমাদের দেশের পর্যটন ও পার্বত্য এলাকা এবং ভারতের দার্জিলিংয়ের মতো দেখতে।

অপরদিকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থানগুলোরে মধ্যে কলকাতা শহরের পাতাল রেল, ট্রাম, দর্শনীয় স্থান রবীন্দ্র ভারতী ও বিশ্বভারতীর শান্তি নিকেতন বিশ্ববিদ্যালয়, শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, রাজধানী নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থান যেমন- হুমায়ুন টম্ব, নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজার, ইন্ডিয়া গেট, কুতুব মিনার, লোটাস টেম্পল ইত্যাদি পরিদর্শন করার অভিজ্ঞতা।

অপরদিকে বিশ্ব সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম নিদর্শন তাজমহল এবং সেইসাথে সকল ধর্মীয় পবিত্র স্থান আজমীর শরিফ, আন্নাসাগর দিঘী, ফতেহপুর সিক্রি, জয়পুর পিংক সিটি, আম্বার ফোর্ট ইত্যাদিও দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরেও অনেক অদেখা সুন্দর জায়গা রয়েছে, যেগুলো ভ্রমণ করলে মনের খোরাক জোগায়। সেরকম উল্লেখযোগ্য হলো রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পতেঙ্গা, ইনানী, কলাতলী বীচসহ বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত।

রয়েছে সদ্য চালু হওয়া মেরিন ড্রাইভের অভিজ্ঞতা। রয়েছে দেশের মালিকানাধীন একমাত্র নারিকেল জিঞ্জিরা বা সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। দিনাজপুরের রামসাগর, রাজবাড়ি, স্বপ্নপুরী, কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শন, সিলেট, মৌলভী বাজার, শ্রীমঙ্গল চা বাগান পরিদর্শন, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, এমনকি লাউয়াছড়া বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রাকৃতিক বন, বগুড়ার আরডিএ এবং মহাস্থানগড় পরিদর্শনের অভিজ্ঞতাসহ আরো রয়েছে ট্রেন জার্নি ও বাস জার্নির মজার মজার পারিবারিক অভিজ্ঞতা।

বইটির প্রচ্ছদ করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি শিল্পী তপন কুমার সরকার, প্রুফ দেখে দিয়েছেন ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের সরকারি পরিচালক মুহাম্মদ রাশেদুল আনাম এবং নামাঙ্কণ ও অলংকরণ করেছি আমি নিজেই। ভাষা এবং বইমেলার মাসের ২১ ফেব্রুয়ারিতে মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মো¯Íাফিজুর রহমান বইটির পাঠোন্মোচন করেছেন।

পাঠকদের জন্য আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে স্বভাবজাত লেখনির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন ড. হুমায়ুন কবীর। ড. মো. হুমায়ুন কবীরের জন্ম: ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭০, পিতা- মৃত হেকমত আলী, মাতা-মিসেস শামসুন্নাহার এবং নরসুন্দা নদীর তীরে তাঁর স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-চরটেকী, ডাকঘর-তারাকান্দি, উপজেলা-পাকুন্দিয়া, জেলা-কিশোরগঞ্জ। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশালস্থ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার চরকাওনা উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি ও পাকুন্দিয়া ডিগ্রী কলেজ হতে এইচএসসি উভয়টিতে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ময়মনসিংহে অবষ্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসিএজি, এমএস (কৃষিতত্ব) ও পিএইচডি (কৃষিতত্ব) ডিগ্রী অর্জন করেন। ড. মো. হুমায়ুন কবীর মূলত পরিবেশ ও কৃষিবিষয়ক গবেষক, প্রবন্ধকার ও কলাম লেখক।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তাঁর পত্র-পত্রিকায় লেখার অভ্যাস। ময়মনসিংহে ‘দৈনিক জাহান’ পত্রিকা দিয়ে শুরু। তারপর চাকুরিকালীন সময়ে বিভিন্ন সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও দৈনিক পত্রিকায় সম্পাদকীয় কলামে কৃষি, পরিবেশ-প্রতিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনীতি, বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতা, রাজনৈতিক এবং শিক্ষামূলক সাম্প্রতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিয়মিত কলাম লিখছেন। এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে তাঁর প্রায় পাঁচ শতাধিক আর্টিকেল বিভিন্ন পত্রিকায় এবং প্রায় অর্ধশতাধিক বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি মূলত একজন প্রবন্ধকার হলেও সাহিত্যের মূলধারার কাজ হিসেবে উপন্যাস ও ভ্রমণ কাহিনী লিখে যাচ্ছেন। স্ত্রী কলেজ শিক্ষিকা মোস্তাফিজা রুস্তি নিশু, দুই সন্তান হাসিন শাহাদ নাফি ও হাসিন ইশরাক তকিকে নিয়ে তাঁর সংসার।

কৃষি ও পরিবেশ বিষয়ক লেখকের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পাক্ষিক কৃষি প্রযুক্তি পত্রিকা ‘লেখক সম্মাননা-২০১৫’ পেয়েছেন। এ বিষয়ে লেখালেখির মাধ্যমে কৃষি সেক্টরে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রকাশনা ক্যাটাগরিতে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২২’ এবং ‘কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কৃষিপদক ২০১৮’ অর্জন করেছেন। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ গ্রন্থ তিনটি- ‘কৃষি ও পরিবেশ: বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট’, ‘বঙ্গবন্ধু থেকে দেশরত্ন’ এবং জীবনভিত্তিক উপন্যাস ‘নরসুন্দার বাঁকে’ ইতোমধ্যে ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

পাঠক, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, গুরুজন, শুভানুধ্যায়ীবৃন্দের পরামর্শে ও অনুরোধে ‘ভ্রমণ দেশ বিদেশ’ গ্রন্থ আকারে প্রকাশ তাঁর প্রথম ভ্রমণ কাহিনী। প্রকাশের পরপরই বাংলা একাডেমি বইমেলা ২০১৮তে বইটি ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে। ঢাকাস্থ বাংলাবাজারের দিকদর্শন প্রুপের ‘গ্রন্থ কুটির প্রকাশনী’ হতে প্রকাশিত ৮০ পৃষ্ঠার এ বইটির মূল্য ১২৫ টাকা। অন্যান্য লেখাগুলোর মতো তাঁর এ ভ্রমণ কাহিনীরও সাফল্য কামনা করি।

লেখক: সহকারি অধ্যাপক, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাস বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।