Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, সোমবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

অখন্ড ভারতের প্রথম রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে বাঙালি নারী


১০ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার, ০৬:২৩  পিএম

প্রিয়ম গুহ, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


অখন্ড ভারতের প্রথম রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে বাঙালি নারী
-রাজ্যশ্রী চৌধুরী। ছবি : প্রতিবেদক

দিল্লি থেকে : পরাধীন ভারতবর্ষের প্রথম রাজনৈতিক দল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার সভাপতির পদে আসীন হলেন বাঙালি নারীনেত্রী রাজ্যশ্রী চৌধুরী। নির্বাচিত সর্বভারতীয় সভাপতি হিসাবে তিনি গড়লেন এক নতুন ইতিহাস। হিন্দু মহাসভা পেল প্রথম মহিলা সভাপতি।

১০ আগস্ট (২০১৮) শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সনাতন ধর্মের সাধু সন্তসহ ভারতের বিশিষ্টজনরা।   

হিন্দু মহাসভার সর্বভারতীয় সম্পাদক মেজর রমেশ উপাধ্যায় পরিচয় করিয়ে দেন নবনির্বাচিত সভাপতিকে। তিনি বলেন, রাজ্যশ্রী চৌধুরীর জন্ম সেই বাঙালি পরিবারে যেই পরিবারের সঙ্গে যোগ রয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর।

শৈশব থেকে নাচ-গান-নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মঞ্চেও সাড়া ফেলেছেন রাজ্যশ্রী। ঘনিষ্টভাবে দুই দশক ধরে যুক্ত থেকেছেন সমাজসেবায়। ছোট বয়েসে গড়ে তোলা সমাজসেবী সংগঠন স্বীকৃতি পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। বিভিন্ন রাজনৈতিক পদক্ষেপও নিয়েছেন মানুষের জন্য।

বিশেষ করে তিনি কৃষকদের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর থেকে আন্দোলন শুরু করেছেন। কাজের স্বীকৃতি হিসাবে বহু সংবর্ধনা লাভ করেছেন। অর্জন করেছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রাইড অব ইন্ডিয়া’ খেতাব। এবার তাঁর মুকুটে যুক্ত হল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার সর্বভারতীয় সভাপতির পালক। 

এদিন মঞ্চে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ঘোষণা করলেন সভাপতি রাজ্যশ্রী চৌধুরী। তিনি দাবি করলেন, ভারতীয় সেনার নাম বদল করে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি করা হোক।

রাজ্যশ্রী চৌধুরী বলেন, ‘ভারতকে কমনওয়েলথ থেকে বেরিয়ে আসার দাবি করা হবে। শ্যামাপ্রসাদ ও লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর তদন্ত করতে হবে। আমাদের আইনকানুন এখনো ব্রিটিশদের তত্ত্বাবধানেই চলছে, সেইসব আইন বদলানো প্রয়োজন। বিভিন্ন বইতে বিপ্লবীদের সন্ত্রাসবাদ বলে অভিহিত করা হয় তাও অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নেতাজি সংক্রান্ত যাবতীয় ভুল প্রচার অবিলম্বে সরকারকে বন্ধের পদক্ষেপ নিতে হবে।’ 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের প্রধান সমেত সদস্যগণ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের সবক’টি রাজ্যের হিন্দু মহাসভার সদস্য ও প্রতিনিধিরা। 

উল্লেখ্য, ১৮৮৭ সালে কয়েকজন বাঙালির হাত ধরে তৈরি হল হিন্দু মেলা। তারপর মিত্র মেলা ও অভিনব ভারত নামে চলতে থাকে ব্রিটিশ ভারতকে প্রতিরোধ করতে কাজকর্ম। এরপর ১৮৮২ সালে হিন্দু মহাসভাতে পরিণত হয়। এদের লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনকে নিশ্চিহ্ন করা।

পরাধীন ভারতবর্ষের প্রথম রাজনৈতিক দল হিসাবে ইতিহাস স্বীকৃত এই সংগঠন ১৯১৫ সালের ১ বৈশাখ হরিদ্বারে মহারাজা মনীন্দ্র চন্দ্র নন্দীর প্রস্তাবে নামকরণ হয় অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। এরপর বিভিন্ন বাঙালি ও অন্যান্য হিন্দু সন্তদের হাত ধরে এগিয়ে চলে হিন্দু মহাসভা।

এই হিন্দু মহাসভারই জাপান শাখার সভাপতি মহাবিপ্লবী রাসবিহারী বসুর নেতৃত্বে গঠিত ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি পরবর্তীকালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর হাত ধরে হয় আজাদ হিন্দ ফৌজ। চলে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে রণাঙ্গনে যুদ্ধ।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।